শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

১০০ টাকা ঘুষের অভিযোগে ৩৯ বছর ধরে আদালতে হাজিরা

প্রকাশিত - ০২ নভেম্বর, ২০২৫   ০২:৪৪ পিএম
webnews24

২৪ ঘন্টা অনলাইন : মাত্র ১০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে ৩৯ বছর ধরে সমাজের লাঞ্ছনা আর আদালতের চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন ভারতের রায়পুরের বাসিন্দা জগেশ্বর প্রসাদ আওয়াধিয়া (৮৩)। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি এখন শুধু শান্তিতে মৃত্যু কামনা করছেন। এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার জানিয়েছে, ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের বাসিন্দা জগেশ্বর ছিলেন মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের একজন বিলিং সহকারী। অতি সাধারণ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সততার সঙ্গেই জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু সেই সৎ জীবনই কাল হলো তার জন্য। ঘটনাটি ১৯৮৬ সালের, যখন জগেশ্বরের বয়স ৪৪ বছর। ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক কর্মী অশোক কুমার বর্মা তার বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য জগেশ্বরকে চাপ দিচ্ছিলেন। নিয়ম মেনে বিল পরিশোধে রাজি না হওয়ায় অশোক ক্ষিপ্ত হন।

প্রতিবেদন অনুসারে, অশোক প্রথমে ২০ টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করলেও জগেশ্বর তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ২৪ অক্টোবর অশোক ফন্দি এঁটে জোর করে জগেশ্বরের হাতে ১০০ টাকা গুঁজে দেন। ঠিক সেই সময়েই সেখানে হাজির হন নজরদারি কর্মকর্তারা। কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয় জগেশ্বরকে। বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও, ঘুষখোরের তকমা লেগে যায় তার কপালে। এই ঘটনা জগেশ্বর ও তার পরিবারকে সমাজে একঘরে করে দেয়। মান-সম্মান সব হারানোর পাশাপাশি শুরু হয় আর্থিক অনটন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বেতন অর্ধেক করে দেওয়া হয় এবং পদোন্নতিসহ অন্যান্য সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। অবসর গ্রহণের পরও তার পেনশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। জীবনের শেষভাগে এসে তাকে প্রহরীর কাজ করে সংসার চালাতে হয়েছে। দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে আদালতে মামলা চলার পর অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। বিচারক জগেশ্বরকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ততদিনে জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বেঁচে থাকার সব ইচ্ছে। ৮৩ বছর বয়সে এসে আবেগাপ্লুত জগেশ্বর বলেন, এ বার অন্তত আমি শান্তিতে মরতে পারব।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।