শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সব যাত্রী, বেঁচে যান একা, কেমন আছেন তিনি

প্রকাশিত - ০৩ নভেম্বর, ২০২৫   ০৫:৪৫ পিএম
webnews24

২৪ ঘণ্টা অনলাইন : ভারতের আহমেদাবাদে গত ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৪১ জন মানুষ মারা যান। অলৌককিভাবে সেই দুর্ঘটনা থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে বেঁচে যান বিমানযাত্রী বিশ্বকুমার রমেশ। তিনি কেমন আছেন সেই গল্প জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে। রমেশ জানিয়েছেন, নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান’ মানুষ হিসেবে মনে করেন তিনি। কিন্তু বেঁচে গেলেও এখনো শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।নিজের বেঁচে যাওয়াকে ‘অলৌকিক’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে রমেশ জানিয়েছেন জীবনের প্রায় সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন। বিশেষ করে আপন ভাই অজয়ের জন্য দুঃখ হয় তার। অজয় সেই একই বিমানে কয়েকটি আসন দূরে ছিলেন। মারা যাওয়া ২৪১ যাত্রীর মধ্যে আছেন অজয়ও।

দুর্ঘটনার পর রমেশ যুক্তরাজ্যে ফিরে যান বলে সোমবার (৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে রমেশ আঘাত জনিত মানসিক চাপে আছেন। এতে করে নিজের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঠিকমতো এখনো কথা বলতে পারেন না তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রমেশ বিবিসিকে বলেন, “আমি একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, আমি বিশ্বাস করতে পারি না। এটি ছিল অলৌকিক ঘটনা। দুর্ঘটনায় আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি। সে ছিল আমার মেরুদণ্ড। গত কয়েক বছর সে আমাকে সবসময় সহায়তা করেছে।” “এখন যেন আমি শেষ। আমি রুমে একা বসে থাকি। স্ত্রীর সঙ্গে, আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলি না। আমি বাড়িতে একা থাকতে পছন্দ করি।”

“ওই দুর্ঘটনার পর, আমার জন্য সবকিছু খুব কঠিন হয়ে গেছে। শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আমি। আমার পরিবারও বিপর্যস্ত। আমারও মা গত চার মাস ধরে একা বসে থাকেন। কারও সঙ্গে কথা বলেন না। আমিও কারও সঙ্গে কথা বলি না। আমার কারও সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না।” “আমি খুব বেশি কথা বলতেও পারি না। আমি সারারাত শুধু ভাবি, মানসিকভাবে আমি খারাপ অবস্থায় আছি। পুরো পরিবারের জন্য প্রত্যেকটি দিন বেদনার।” রমেশ বিমানটির জরুরি বহির্গমন দরজার পাশের আসনে ছিলেন। যখন এটি বিধ্বস্ত হয় তখন তিনি ছিটকে বাইরে পড়ে যান। তিনি নিজে ওই সময় হেঁটে দুর্ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসেন। তবে তিনি পা, কাঁধ, হাঁটু এবং শরীরের পেছন দিকে এখন ব্যথা অনুভব করেন। এ কারণে দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। এছাড়া গাড়িও চালাতে পারেন না। ঠিক মতো হাঁটতে পারেন না। রমেশ বলেন, “যখন আমি হাঁটি, ঠিক মতো হাঁটতে পারি না। স্ত্রীর সহায়তা নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটি।”

সূত্র: বিবিসি

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।