২৪ঘণ্টা অনলাইন : স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর পর বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য তাঁর পরিবার আবেদন করেছিল বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন। তবে এ নিয়ে পরিবার, জেলা প্রশাসন ও যশোর জেলা প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে তাঁর মামা হেমায়েত উদ্দিন বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন। ছুটির দিন থাকায় ডিসিকে বাংলোয় গিয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাগেরহাটের ডিসি তাঁদের যশোর জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা তো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বুঝি না। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই জেলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কারাফটকে কয়েক মিনিটের জন্য ভাইকে তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেখানোর ব্যবস্থা করি।’
সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষ যদি শুরুতেই যশোরে আবেদন করার কথা জানাত, তাহলে তাঁরা সেখানে আবেদন করতেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের কোথাও বলা হয়নি যে যশোরে আবেদন করলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।’
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী, তাই প্যারোল সংক্রান্ত আবেদন সেখানকার জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে করতে হবে—এ কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করা হয়।
অন্যদিকে যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। সময় স্বল্পতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্তেই প্যারোলের আবেদন না করে কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্যারোলের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি—এমন তথ্য সঠিক নয়; কারণ, প্যারোল সংক্রান্ত কোনো আবেদনই যশোর জেলা প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। মানবিক দিক বিবেচনায় মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।
