২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইরানের রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সরকারের ঘনিষ্ঠ দু’টি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পরই তেহরানে হামলার আশঙ্কা বাড়ে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা বিবেচনায় মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সঙ্গে যুক্ত একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারে অবস্থান করছেন খামেনেই। একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব সাময়িকভাবে সামলাচ্ছেন তাঁর তৃতীয় পুত্র মাসুদ খামেনেই। তিনি ইরানের প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও জানা গেছে।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর শেষে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আমেরিকার নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পশ্চিম এশিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর পরই পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। শুক্রবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইরানের ওপর যে কোনও ছোট বা বড় হামলাকেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে দেখা হবে। তাঁর দাবি, ‘‘এ বার সামান্যতম হামলাও সহ্য করা হবে না। সার্জিক্যাল হোক বা সীমিত—যে কোনও আক্রমণের জবাব হবে কঠোরতম।’’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমে ধর্মীয় শাসনের বিরোধিতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে গুলিচালনার অভিযোগও উঠেছে। এই গণআন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র, যার পর থেকেই মার্কিন-ইরান সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নৌবহর মোতায়েনের ঘোষণা এবং খামেনেইয়ের বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার খবরে পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
