শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

পুতিন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে জিনপিং

প্রকাশিত - ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ০২:১০ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : প্রথমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার কয়েক ঘণ্টা পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই দিনে দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নানা জল্পনা উস্কে দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট তথা ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং। দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনায় সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ এসেছে বলে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি।

চলতি মাসের ২৪ তারিখ ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তি হতে চলেছে। তার আগে শি-পুতিন ভিডিয়ো-কনফারেন্সিং বৈঠকে যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ এসেছে বলে রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে। আলোচনার পরে একটি রুশ টিভি চ্যানেলকে পুতিন বলেন, ‘‘রাশিয়া-চিন জ্বালানি তেল অংশীদারি পারস্পরিক ভাবে উপকারী এবং কৌশলগত। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ও তা অত্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে।’’ সোমবার ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার কথা জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়া থেকে আর তেল না কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জিনপিঙের সঙ্গে আলোচনার পরে ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান ও তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা।’’ এপ্রিলে তাঁর বেজিং সফর, দ্বিপাক্ষিক সামরিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং আমেরিকার থেকে চিনের তেল কেনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি। যদি চিনা সরকার এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প-জিনপিং আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল আমেরিকা-রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র সংবরণ সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং তাতে চিনকে অন্তর্ভূক্ত করার প্রসঙ্গ। ২০১০ সালে ৮ অক্টোবর আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র সংবরণ সংক্রান্ত আমেরিকা-রাশিয়া ‘কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি’ ‘নিউ স্টার্ট চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়। মস্কোর সঙ্গে ওই চুক্তি সেরেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে তখন ছিলেন অধুনা পুতিন-ঘনিষ্ঠ রুশ সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি আনাতোলিয়েভিচ মেদভেদেভ।

পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা হ্রাস করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে। তার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর শর্ত অনুযায়ী, কৌশলগত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডুবোজাহাজের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমানের সংখ্যা এবং আণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য একে অপরের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করা হবে বলে ঠিক করা হয়েছিল। চুক্তিটিতে মস্কোর টিইউ-১৬০ এবং টিইউ-৯৫-এর মতো শক্তিশালী বোমারু বিমানের কথা বিশেষ ভাবে বলা রয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি চিনকে ওই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। কিন্তু তা নাকচ করে জিনপিং সরকার জানায়, তাদের হাতে আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো বিপুল পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র নেই। ট্রাম্প গত নভেম্বরেও পরমাণু চুক্তির বিষয়টি নিয়ে জিনপিঙের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছিলেন।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।