২৪ঘণ্টা অনলাইন : ভারতে তিন কিশোরী বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং বাবা চেতন কুমারের প্রায় দুই কোটি রুপি ঋণ এই দুই বিষয়ই ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের দাবি, নিহত তিন বোনের বাবা চেতন কুমারের তিন স্ত্রী রয়েছেন—সুজাতা, হিনা ও টিনা। তারা তিনজনই আপন বোন।
তদন্তে আরো জানা যায়, বাবা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মেয়েদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা বিক্রি করে দেওয়ার পর থেকেই তিন বোন চরম মানসিক চাপে ভুগছিল।
চেতন কুমার দাবি করেছেন, অতিরিক্ত কোরিয়ান কনটেন্ট দেখার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পেশায় শেয়ার ব্রোকার চেতন কুমারের বিপুল ঋণের বোঝা ছিল, যার কারণে পারিবারিক খরচ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার রাতে কোরিয়ান বিনোদনের বড় ভক্ত নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) তাদের মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হলেও কাঙ্ক্ষিত কোরিয়ান অ্যাপ ও কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারেনি।
ফরেনসিক দল জানিয়েছে, মায়ের ফোনে কোরিয়ান কনটেন্ট সংক্রান্ত কোনো অ্যাপে প্রবেশের প্রমাণ মেলেনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বোন অনলাইন গেম খেলতে এবং তাদের কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না। তারা বাবার প্রতি বেশি অনুরক্ত ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ সুইসাইড নোটে বাবার উদ্দেশে বার্তা লেখা হলেও মায়ের নাম উল্লেখ নেই। হাতে লেখা সুইসাইড নোট, অন্যান্য বার্তা ও আঙুলের ছাপ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম দল আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে মোবাইল ফোনগুলোর ক্রেতা শনাক্ত করে কোরিয়ান অ্যাপসংক্রান্ত তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সাহিবাবাদ থানার রাজেন্দ্র নগর কলোনিতে একটি ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে চেতন কুমারের লিভ-ইন সঙ্গিনীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করে মামলা খারিজ করে দেয়।
সূত্র : এনডিটিভি
