২৪ঘণ্টা অনলাইন : নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি। আচমকা সেখানেই বোমা এসে পড়ে। তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও। ইরানের সংবাদমাধ্যম এমনটাই জানাচ্ছে। দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে। তাতেই সব শেষ।
সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘হামলার সময় খামেনিই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।’’ খামেনিয়ের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাই।’’
ইরানের বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনিয়ের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। তবে প্রত্যাঘাত হবে। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের বাহিনীকে নিশানা করে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, সেই তীব্রতম হামলা শুরু হবে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই। খামেনিয়ের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনিয়ের মৃত্যুর পরেও যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘সবেচেয়ে খারাপ লোক খামেনি নিহত। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনি। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল।’’ খামেনি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইসরায়েল। দাবি, খামেনির সম্পূর্ণ এলাকাই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে ইরানে আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। পরে জানা যায়, আমেরিকার সেনাও হামলায় সহায়তা করছে। যৌথ বাহিনীর হামলায় মুহুর্মুহু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আছড়ে পড়ছিল তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলোতে। পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ইরানের বাহিনীও। তারা শুধু ইসরায়েলে নয়, সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে নিশানা করে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, আবু ধাবিতে বোমা পড়ে। খালি করা হয় বুর্জ খলিফাও। এ ছাড়া, কাতার এবং সৌদি আরবেও ইরান হামলা চালিয়েছে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
