২৪ঘণ্টা অনলাইন : নানা ধরনের ওষুধ, কেমোথেরাপির সাহায্যে অবশ্য ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে এ কথা তো মিথ্যে নয়, এই ধরনের ওষুধ বা থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
স্তন, ফুসফুস, লিভার বাদে ভারতে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নতুন করে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। নানা ধরনের ওষুধ, কেমোথেরাপির সাহায্যে অবশ্য ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে এ কথা তো মিথ্যে নয়, এই ধরনের ওষুধ বা থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে আধুনিক বিজ্ঞান এ বার প্রাচীন আয়ুর্বেদের শরণাপন্ন হয়েছে। নতুন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিমের মধ্যে থাকা বিশেষ যৌগ গেডুনিন (Gedunin) অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার মোকাবিলার ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকরী।
কী ভাবে কাজ করে নিমের ‘গেডুনিন’?
গবেষকদের মতে, নিমে মধ্যে থাকা এই 'গেডুনিন' নামক যৌগটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী 'সনিক হেজহগ'(Sonic Hedgehog - Shh) নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়। এর ফলে কী লাভ হয়?
কোষের মৃত্যু: এটি ক্যান্সার কোষকে নিজে থেকে ধ্বংস করে দেয় (Apoptosis)।
সংক্রমণ রোধ: ক্যান্সার যাতে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে (Metastasis) না পড়ে, তাতে বাধা দেয়।
কম বিষক্রিয়া: প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এটি শরীরের সুস্থ কোষের ওপর অনেক কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ক্যান্সার ছাড়াও নিমের অন্যান্য স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে:
১. ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে : দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় নিমের মাজন বা মাউথওয়াশ অত্যন্ত কার্যকর।
২. ত্বকের সুরক্ষা : ব্রণ থেকে এগজিমা— নিমের গুণে সবই সেরে যেতে পারে। কারণ, এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ।
৩. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ : বেশ কিছু গবেষণা বলছে, নিম ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা : নিমের ভেষজ গুণ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।
জেনে রাখা ভালো, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক স্তরে (ল্যাবরেটরি ও প্রি-ক্লিনিক্যাল) রয়েছে। তাই নিমকে ক্যান্সারের বিকল্প চিকিৎসা ভাবলে ভুল হবে। নিম পাতা, নিম তেল বা নিমের নির্যাস দিয়ে তৈরি ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে মনে রাখতে হবে,
