২৪ঘণ্টা অনলাইন : মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে পারিবারিক ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর ও শিক্ষণীয়। বিশেষ করে তাঁর কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অনন্য—তিনি তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, সম্মান দিতেন এবং নিজের নিকটস্থ স্থানে বসাতেন। এই ভালোবাসার মধ্যে যেমন পিতার মমতা প্রকাশ পায়, তেমনি এতে রয়েছে উম্মতের জন্য উত্তম আদর্শ। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেন, একবার নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রীরা সকলেই তাঁর কাছে বসা ছিল। এমন সময় ফাতেমা (রা.) আসলেন। তার হাঁটা-চলা আর রাসুল (সা.)-এর হাঁটা-চলার মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। তখন নবী করিম (সা.) তাকে দেখে স্বাগত জানিয়ে বললেন, ‘বাহ, আমার কন্যার শুভাগমন হোক।’ তারপর তিনি তাকে ডেকে নিজের ডান অথবা বাম পাশে বসালেন।
তাকে কানে কানে গোপনে কিছু বললেন। তখন ফাতেমা (রা.) জোরে কাঁদতে শুরু করলেন। তার অস্থিরতা দেখে রাসুল (সা.) আবার তাকে কানে কানে কিছু বললেন। এবার তিনি হাসতে লাগল।আয়েশা (রা.) বলেন, মজলিস শেষে) আমি ফাতেমাকে জিজ্ঞাস করলাম, ‘রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবাইকে বাদ দিয়ে এমন কি গোপন কথা বলেছেন যে, তুমি কাঁদছো?’ তখন সে বলল, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর কোনো গোপন কথা প্রকাশ করব না।’তারপর রাসুল (সা.) মৃত্যুবরণ করলে আমি ফাতেমাকে বললাম, ’তোমার প্রতি আমার অধিকার আছে। তাই আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি আমাকে বলতে হবে, সেদিন রাসুল (সা.) তোমাকে কী বলেছিলেন? সে বলল, ’এখন বলতে কোন অসুবিধা নেই।’ আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রথমবার কানাকানে আমাকে বলেছিলেন যে, ‘জিবরাইল (আ.) প্রত্যেক বছর তাঁকে একবার করে কোরআন শোনান। কিন্তু এবার তিনি দুই বার শুনিয়েছেন।
তাই আমি বুঝতে পারছি যে, আমার মৃত্যু সন্নিকটে। সুতরাং তুমি (হে ফাতেমা!) আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী।’ তখন আমি (এ কথা শুনে) কেঁদে ফেলেছিলাম, যা তুমি দেখলে। তারপর তিনি আমার অস্থিরতা দেখে দ্বিতীয়বার কানে কানে বললেন, ‘হে ফাতেমা! তুমি কি এটা পছন্দ কোরো না যে, (জান্নাতে) তুমি নারীদের তুমি সর্দার হবে অথবা এই উম্মতের নারীদের সর্দার হবে?’ তখন (এমন সুসংবাদ শুনে) আমি হাসছিলাম, যা তুমি দেখলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৬২৪) এভাবে ফাতেমা (রা.)-এর প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা আমাদের শেখায়, পরিবারে ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক শুধু দুনিয়াবী নয়, বরং আখিরাতমুখী ও আল্লাহভীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠা এক সম্পর্ক—যা প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য অনুসরণীয় এক মহৎ দৃষ্টান্ত।
