শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

হাদিসের বাণী, সর্বকালের সর্বোত্তম শিক্ষক মহানবী (সা.)

প্রকাশিত - ০৮ এপ্রিল, ২০২৬   ১০:২১ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা  অনলাইন : মানবজীবনে শিক্ষাদানের সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো নম্রতা, সহানুভূতি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করা। মহানবী (সা.) ছিলেন সেই আদর্শ শিক্ষক, যিনি কঠোরতা নয় বরং কোমলতা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। সাহাবায়ে কেরামদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা এই বিষয়েরেই সাক্ষ্য বহন করে। ইরশাদ হয়েছে, 

মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (একবার) মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়ছিলাম।এমন সময় হঠাৎ একজন মুক্তাদি হাঁচি দিলে আমি (তার জবাবে) ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বলি। তখন অন্য মুক্তাদিরা আমার দিকে  তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলো। আমি বললাম, ‘হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আমাকে এভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছ?’ (এ কথা শুনে) তারা হাত দিয়ে নিজ নিজ ঊরুতে আঘাত করতে লাগল।

আমি যখন তাদের দেখে বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে (তখন তো আমার খুব রাগ হচ্ছিলো); কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম। তারপর মহানবী (সা.) যখন নামাজ শেষ করলেন---আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক, আমি আগে-পরে তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে না তিরস্কার করলেন, আর না আমাকে মারধর করলেন, আর না আমাকে গালি দিলেন...। তিনি বললেন, ‘নামাজে তো মানুষের কোনো কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তিলাওয়াত।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৩৭)

এই হাদিস আমাদের শিখায় যে—ইবাদতের সময় শিষ্টাচার রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি অন্যের ভুল হলে তাকে নম্রভাবে সংশোধন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যদি আমরা হাদিসের এই শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করি—বিশেষ করে দাওয়াহ, শিক্ষা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা এই মহান আদর্শ অনুসরণ করি, তবে সমাজে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা এবং সত্যিকারের ইসলামী চরিত্র গড়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।

 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন