২৪ঘণ্টা অনলাইন: মানুষের তাবিজ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন করে এ বিষয়ে। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষই আছে যারা প্রকৃত জীবন থেকে অনেক দূরে। যাদের উপর বদজীন চালান, বান মারা বা কালা জাদু করা হয়েছে অথচ তারা তাবিজ সম্পর্কে বিশ্বাসই করতে চায় না। আর তাদের অবিশ্বাসের উপর সুযোগ নিচ্ছে তাবিজকারীরা। ঘাড়ের উপর বান নিয়েও মানুষ নিজেদের চালাক মনে করে, মূলত তারা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্বোধ লোক।
কেননা আল্লাহ বলেন-
তোমরাও বিশ্বাস কর যেমন অন্যরা করে, তারা বলে, ‘আমরা কি বিশ্বাস করবো যেমন নির্বোধরা করে’? অথচ তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।
(সুরা বাকারা-১৩)
রাসূল স. এর উপর যখন কুফরী করা হয়েছিল তখন জিব্রাইল আ. যে সুরা গুলো নিয়ে আসেন ঐ সুরা গুলোর মধ্যে অন্যতম হল- সুরা নাস।
আসুন আমরা জেনে নেই সুরা নাসে তাবিজ সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেছেন?
বলুন-
আমি মানুষের রব থেকে আশ্রয় চাই,
আমি মানুষের মালিক থেকে আশ্রয় চাই,
আমি মানুষের ইলাহ থেকে আশ্রয় চাই।
আমি খান্নাসের কুমন্ত্রনার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই, যে মানুষের অন্তর সমূহে কুমন্ত্রনা দেয়।
আমি বদজীন ও বদলোক থেকে আশ্রয় চাই।
এই সুরায় আল্লাহ রাসূলকে জানিয়েছেন তাবিজের কি কি প্রভাব তার উপর আছড় করতে পারে।
১. অকল্যাণের সম্মুখীন অর্থাৎ নিজের সাবলীল জীবন যাপন হারিয়ে ফেলে অন্যের স্বার্থ রক্ষার জন্য চরম বাধ্য হওয়া।
২. কুমন্ত্রনার সম্মুখীন অর্থাৎ নিজের সঠিক পথ উপেক্ষা করে অন্যের গভীর ষড়যন্ত্রে পা দেয়া।
৩. খান্নাসের সম্মুখীন অর্থাৎ নিজের নিরাপদ জীবন হারিয়ে ফেলে কঠিন প্রতিশোধ পুষে রাখা মানুষের রোষানলে পতিত হওয়া।
৪. বদজীন-চালানের সম্মুখীন অর্থাৎ অন্যের পেতে রাখা প্রমাণ হীন ধ্বংস আলিঙ্গন করা।
৫. বদলোকের সম্মুখীন অর্থাৎ যে হত্যা করতে উদ্যত কাকতালীয় ভাবে তার তলোয়ারের নিচে নিজের গর্দান বিলিয়ে দেয়া।
কুরআনের ভাষায় অকল্যাণকর বসিকরণ, ষড়যন্ত্রের কুমন্ত্রনা, খান্নাসের রোশানল, বদজীনের বদ নজর ও বদলোকের উদ্যত আচরণ থেকে সাবধান হওয়া জরুরি। এগুলো অগ্রাহ্য ও গুরুত্ব না দেয়া একটা মানুষ বা পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।
আল্লাহ আমাদের সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে তাবিজের বান থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তানভীরুল আরিফীন
