শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মাইগ্রেনে ঘায়েল  বেশি মেয়েরাই

প্রকাশিত - ৩০ মে, ২০২৬   ০২:০২ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : আধকপালি বা মাইগ্রেন হেডেকের সমস্যা অনেকেরই আছে। কিন্তু চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রবল মাথা ধরার এই অসুখ মহিলাদেরই বেশি হয়। পরিসংখ্যান বলে, প্রতি ৫ জন মহিলার মধ্যে একজনেরই মাইগ্রেন ক্লাস্টার হেডেকের সমস্যা আছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রতি ২০ জনে এক-দু’জনের।

কিন্তু কেন? কিংবা এর সমাধানই বা কী? সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এবার তারই হদিশ মিললো। এক ভারতীয় বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া (ইউভিএ)-র স্কুল অফ মেডিসিনে হওয়া সেই গবেষণাটি বলছে, এর জন্য দায়ী স্ত্রী-হরমোন প্রোজেস্টেরন। এবং ইঁদুরের উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে ওই গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, শরীরের প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরকে যদি কোনও ওষুধ দিয়ে ব্লক করে দেওয়া যায়, তা হলেই মাইগ্রেন অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে যায় প্রায় পুরোপুরি। প্রকল্পটির মুখ্য গবেষক, ইউভিএ ব্রেন ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়দীপ কাপুর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মহিলাদের কেন মাইগ্রেন বেশি হয়, সেটা খুঁজতে গিয়েই বোঝা যায়, সমস্যাটা স্ত্রী-হরমোন প্রোজেস্টেরনের। সেটাকে ‘ক্রস-চেক’ করতে গিয়ে ব্লক করা হয় ইঁদুরের প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরকে। নিউরোলজিক্যালি তাতে দেখা যায়, কমে যাচ্ছে মাইগ্রেনের এপিসোড।

এই গবেষণাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে চিকিৎসক মহলের একটা বড় অংশই। পেন ম্যানেজমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম দাসের মতে, ‘এই গবেষণা যুগান্তকারী। শুধু মহিলাদের মাইগ্রেন প্রবণতার কথাই এই গবেষণা বলে না, সেটা সারানোর দিশাও দেখায়।’ তবে তাঁর মতে, আরও বিস্তারিত গবেষণা করে দেখা দরকার, সেই থেরাপি অন্য কোনও পার্শ্ব বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে কি না অথবা কোনও স্ত্রীরোগ কিংবা ক্যান্সারের আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে কি না। অনেকাংশে একমত পেন ম্যানেজমেন্টের আর এক বিশেষজ্ঞ দেবাঞ্জলি রায়। তাঁর সংযোজন, ‘এই গবেষণায় মূলত রজঃস্বলা মহিলাদের উপরই ফোকাস রাখা হয়েছে। তাই প্রোজেস্টেরনের মতো একটি স্টেরয়েড গোত্রের স্ত্রী-হরমোনের ভূমিকা দেখা গিয়েছে। একই ভাবে ইস্ট্রোজেন নামের স্ত্রী-হরমোনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা উচিত।’

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু এমন অ্যানাটমিক্যাল বা ফিজ়িয়োলজিক্যাল ফ্যাক্টরের কারণেই যে মহিলাদের মাথা ধরার সমস্যা বেশি দেখা যায়, তা-ই নয়। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অলোকেশ কোলে বললেন, ‘মহিলাদের মধ্যে বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকা ও খিদে চেপে রাখার একটা প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেকটা কমে মাইগ্রেনের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়।’

আর এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসের মতে, ‘মহিলাদের মধ্যে বাসি খাবার খাওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়। আর বাসি খাবারে টাইরামিন নামের এক ধরনের অ্যামাইন যৌগের মাত্রা বেড়ে যায়। পনির ও ছানার তৈরি খাবারে এই বৃদ্ধি হয় আরও বেশি। আর টাইরামিন এমন একটি রাসায়নিক, যা পেটে গেলেই তা রক্তবাহিকায় এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যা কিন্তু মাইগ্রেনের সহায়ক।’

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন