২৪ঘণ্টা অনলাইন : সম্পর্কে সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে? মনে হচ্ছে সঙ্গী আগের মতো আর খোলাখুলি কথা বলেন না? ছোট ছোট বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝিও বড় ঝগড়ায় পরিণত হচ্ছে? অনেকেই ভাবেন ভালোবাসা বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে। যদিও মনোবিদদের মতে এই সমস্যার সূত্র হতে পারে অন্য কিছু। তা হলো— শোনার অভ্যাস। সম্পর্ক মানে শুধু নিজের কথা বলা নয়। একে-অন্যের কথা কতটা মন দিয়ে শুনছেন, সেটাও সমান ভাবে জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় শোনার আচরণ থেকেই বোঝা যায় মানুষটি আসলে কেমন প্রকৃতির। আর সেখানেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কের সুখ-দুঃখের অনেক উত্তর।
সঙ্গী যখন নিজের মনের কথা বলছেন, তখন আপনি কতটা মনোযোগ দিচ্ছেন? চোখে চোখ রেখে শুনছেন, নাকি ফোন স্ক্রল করছেন? বিশেষজ্ঞের মতে, যে মানুষ মন দিয়ে শোনেন, তিনি সাধারণত সম্পর্কে বেশি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হন। তাঁর সঙ্গীও নিরাপদ বোধ করেন।
অনেকেরই অভ্যাস, সঙ্গীর কথা শেষ হওয়ার আগেই নিজের মতামত দিয়ে দেওয়া। কখনও এটা উৎসাহের লক্ষণ হতে পারে। তবে সবসময় এমন হলে তা সম্পর্কে সমস্যার কারণও হতে পারে। কারণ এতে অন্য মানুষটির মনে হতে পারে, তাঁর অনুভূতির কোনও মূল্য নেই।
আজকের দিনে অনেক সম্পর্কেই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। ডিনার টেবিলে বসেও ফোন দেখা, কথা বলতে বলতে মেসেজের উত্তর দেওয়া বা বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখা— এগুলো ধীরে ধীরে ইমোশনাল ডিসটেন্স তৈরি করে। সঙ্গী তখন মনে করতে শুরু করেন, তিনি আর আপনার প্রায়োরিটির তালিকায় নেই।
সবসময় বেশি কথা বলা মানুষই ভালো সঙ্গী হন না। অনেক মানুষ কম কথা বলেন, কিন্তু সঙ্গীর প্রতিটি ইমোশনকে বোঝার চেষ্টা করেন। গলার স্বরের সামান্য পরিবর্তন কিংবা মুখ দেখেই তাঁরা বুঝতে পারেন কিছু একটা ঠিক নেই। এই ধরনের মানুষরা সাধারণত সম্পর্কে গভীর আবেগের বন্ধন তৈরি করতে পারেন।
সম্পর্কে মতবিরোধ হবেই। কিন্তু সেই সময় আপনি কী ভাবে প্রতিক্রিয়া দেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গীর কথা না শুনে সঙ্গে সঙ্গে ডিফেন্সিভ হয়ে পড়া বা রেগে যাওয়া সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ায়। বদলে শান্ত থেকে তাঁর অনুভূতিটা বোঝার চেষ্টা করলে সমস্যা সহজে মিটে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, ছোটবেলার অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পর্কের আচরণকে অনেকটাই প্রভাবিত করে। কেউ এমন পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে তাঁর কথা গুরুত্ব পেত না। ফলে বড় হয়ে তিনিও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। আবার কেউ সবসময় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বড় হলে অন্যের কথা কেটে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়, মনোযোগ সহকারে কথা শোনাই সম্পর্ক মধুর করে তুলতে পারে। সঙ্গীর বলা ছোট কোনও ঘটনা মনে রাখা, তাঁর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা কিংবা কোনও জাজ না করে শুনে যাওয়া— এই ছোট ছোট অভ্যাসই সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তোলে।
