শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩
পানি সংকটে নতুন আশার আলো

উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির বিশাল ভাণ্ডার

প্রকাশিত - ২১ জুন, ২০২৬   ০৮:৪৯ পিএম
webnews24

বাগেরহাট প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে চরম পানি সংকটে থাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে এক যুগান্তকারী গবেষণায়।

গবেষণায় জানা গেছে, সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির দুটি বৃহৎ স্তরের অস্তিত্ব রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণা দলে যুক্ত ছিলেন ভূতত্ত্ব–এর গবেষকরা। গবেষণাটি সম্প্রতি ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গবেষকরা জানান, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় ১২০ কিলোমিটার এলাকায় ২৫টি পয়েন্টে পরীক্ষা চালিয়ে এই মিঠাপানির স্তরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বরফ যুগে গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার মিঠাপানি ও বৃষ্টির পানি হাজার বছর আগে বালুময় স্তরে আটকে গিয়ে সংরক্ষিত হয়েছে।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একটি স্তর প্রায় ৮০০ মিটার গভীর পর্যন্ত এবং আরেকটি স্তর ২৫ থেকে ২৫০ মিটার।  তবে দ্বিতীয় স্তরে তুলনামূলক লবণাক্ততার ঝুঁকি রয়েছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

উপকূলীয় এলাকার স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—অগভীর নলকূপের পানি পানযোগ্য নয় এবং বিকল্প উৎসও সীমিত। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নারীদের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়, যা জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই পানি ১০ থেকে ২৫ হাজার বছর পুরোনো সংরক্ষিত সম্পদ।  এটিকে “কৌশলগত ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ” হিসেবে ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্ক করেছেন, অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ স্থাপন বা অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে লবণাক্ত পানি এই স্তরে প্রবেশ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক সংকট তৈরি করবে।

পরিবেশবিদ ও গবেষকরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ভূগর্ভস্থ পানির ভাণ্ডার উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ম.ম.রবি

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন