২৪ঘণ্টা অনলাইন: ঘুমের সময় নাক ডাকা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর একটি সমস্যা। এটি শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির নয়, আশপাশের মানুষের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়। সাধারণত শ্বাসনালী আংশিকভাবে সংকুচিত হলে বাতাস চলাচলের সময় গলার টিস্যুতে কম্পন সৃষ্টি হয়, আর সেখান থেকেই নাক ডাকার শব্দ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এবং কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে নাক ডাকার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করুন : পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক বিছানা-বালিশ ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। মাথা শরীরের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে রেখে ঘুমালে শ্বাসনালী খোলা থাকে, ফলে নাক ডাকার প্রবণতা কমতে পারে।
পাশ ফিরে ঘুমান: চিৎ হয়ে ঘুমালে জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু শ্বাসনালীর দিকে সরে এসে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস নাক ডাকা কমাতে সহায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: গলা ও ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমলে শ্বাসনালী সংকুচিত হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে নাক ডাকার ঝুঁকি কমে।
ন্যাসাল স্ট্রিপ ব্যবহার করতে পারেন: নাক বন্ধ থাকলে ন্যাসাল স্ট্রিপ শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে সাহায্য করে। এতে নাসারন্ধ্র কিছুটা প্রসারিত হয় এবং বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
মাউথপিস হতে পারে সহায়ক: বিশেষ ধরনের মাউথপিস চোয়ালকে সামনের দিকে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাসনালী খোলা থাকে। প্রয়োজনে দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা ভারী খাবার গ্রহণ করলে নাক ডাকার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই রাতের খাবার হালকা রাখা ভালো।
নাক পরিষ্কার রাখুন: নাক বন্ধ থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং নাক ডাকার প্রবণতা বেড়ে যায়। লবণ মেশানো কুসুম গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা এবং ঘুমের আগে গরম পানিতে গোসল করা উপকারী হতে পারে।
ভেষজ তেলের ব্যবহার: পিপারমিন্ট, ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি অয়েলের সুবাস নাকের বন্ধভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে।
ঘুমের সময় শান্ত পরিবেশ বজায় রাখুন: হালকা ও শান্ত সুরের সংগীত মানসিক প্রশান্তি এনে ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমও নাক ডাকার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে নাক ডাকার সমস্যা থাকলে বা শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি অনেক সময় স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
