২৪ঘন্টা অনলাইন : হাঁপানি সাধারণত শ্বাসতন্ত্রের রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের হাঁপানি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার, বিশেষ করে একজিমা ও কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাঁপানি মূলত অ্যালার্জিজনিত প্রদাহের একটি রোগ। ধুলাবালি, ধোঁয়া, ফুলের পরাগ, পশুর লোম কিংবা বায়ুদূষণের মতো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ বেড়ে যায়। এই প্রদাহের প্রভাব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায়ও পড়ে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ত্বকের এই প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে অ্যালার্জেন সহজেই ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তখন চুলকানি, লালচে র্যাশ, শুষ্ক ত্বক কিংবা একজিমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকশিত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাঁপানির কারণে শ্বাসনালিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। এতে শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে, যা রক্তের বিভিন্ন কোষের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে। এর ফলেই ত্বক অতিসংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই অ্যালার্জেন একসঙ্গে হাঁপানি ও একজিমার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। রোগীর শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি মুখ, হাত, কনুই, হাঁটুর পেছনসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লালচে বা কালচে র্যাশ, চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ বা স্টেরয়েডসমৃদ্ধ ইনহেলারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও কিছু রোগীর ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হাঁপানি থাকলে শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি, র্যাশ বা শুষ্কতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধুলাবালি, ধোঁয়া ও অন্যান্য অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে গেলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
