২৪ঘন্টা অনলাইন : অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। তাদের দাবি, একটি বিশেষ ইনজেকশনের একবারের ডোজই হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে এবং বাতের ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হতে পারে। সফল হলে ভবিষ্যতে অনেক রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর একদল গবেষক এ নিয়ে কাজ করছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি এই ইনজেকশন প্রথমে প্রাণীর ওপর ভালো ফল দিয়েছে। পরে সীমিত পর্যায়ে মানুষের ওপরও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইনজেকশন দেওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হাড় ও টিস্যুর স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়াও সক্রিয় হয়। এতে নতুন কোষ গঠনের লক্ষণও দেখা গেছে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সাধারণত হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে ব্যথা বাড়ে এবং হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগটি জটিল আকার নিলে অনেক ক্ষেত্রেই হাঁটু প্রতিস্থাপনই শেষ চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাঁটুর জয়েন্ট তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্যাটেলোফেমোরাল অংশে ক্ষয় শুরু হলে ব্যথা, হাঁটু বাঁকা হয়ে যাওয়া, ওঠা-বসায় সমস্যা এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কার্টিলেজের চিকিৎসা করা হয়। তবে রোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলে জয়েন্ট প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প থাকে না। গবেষকদের আশা, নতুন ইনজেকশন কার্যকর প্রমাণিত হলে এই জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মাঝারি বা গুরুতর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগী, হাঁটু বা লিগামেন্টে আঘাত পাওয়া ব্যক্তি এবং কম বয়সে হাঁটুর সমস্যায় ভুগলেও অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যেতে চান—এমন রোগীদের জন্য ভবিষ্যতে এই চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পদ্ধতিটি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। তাই এটি এখনই নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল মূল্যায়নের পরই এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সূত্র: আনন্দবাজার
