শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

রক্তের নমুনায় ডিম্বাণু, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

প্রকাশিত - ০৭ জুলাই, ২০২৬   ০৯:৩৬ এএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় বড় ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। তারা দাবি করেছেন, মানুষের রক্তের কোষ ব্যবহার করে গবেষণাগারে প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতে প্রজনন চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান কনসেপশন এই গবেষণার কাজ করছে। গবেষকরা ‘ইন ভিট্রো গ্যামেটোজেনেসিস (আইভিজি)’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিতে রক্তের কোষকে প্রথমে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেলে রূপান্তর করেন। পরে সেখান থেকে তৈরি করা হয় ‘প্রাইমর্ডিয়াল জার্ম সেল’, যা ভবিষ্যতে ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

গবেষণায় এখন পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তবে এগুলো থেকে সুস্থ ভ্রূণ বা সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি সফল হলে আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ডিম্বাণু সংগ্রহের জন্য হরমোন প্রয়োগ ও বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতে রক্তের নমুনা থেকেই ডিম্বাণু তৈরি করা গেলে সেই জটিলতা অনেকটাই কমতে পারে।

এ গবেষণা বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাকারী নারীদের জন্যও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যায়। গবেষণাগারে কার্যকর ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হলে বয়সজনিত কিছু জটিলতা মোকাবিলা সহজ হতে পারে। তবে এটি উচ্চ বয়সে মাতৃত্বের সব ঝুঁকি দূর করবে—এমন দাবি করার সময় এখনও আসেনি।

গবেষকরা আরও মনে করছেন, ক্যানসারের কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির কারণে যাদের প্রজননক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের চিকিৎসাতেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে। পাশাপাশি বারবার গর্ভপাতের কিছু কারণ এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতা মোকাবিলায়ও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রযুক্তিতে সাফল্য পেয়েছিলেন। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি জটিল হওয়ায় গবেষণা এখনও প্রাথমিক ধাপে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি আশাব্যঞ্জক হলেও সাধারণ চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং নৈতিক দিকগুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন প্রয়োজন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন