২৪ঘন্টা অনলাইন : হৃদ্রোগীদের রক্ত ও ধমনীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ধমনীতে জমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত বা হার্ট অ্যাটাক হওয়া প্রায় ৮৪ শতাংশ রোগীর রক্তে প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা রয়েছে। একই সঙ্গে ধমনীতেও এসব কণা জমার প্রমাণ মিলেছে। গবেষণাগুলো প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল এবং নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।
গবেষকদের ভাষ্য, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর চেয়েও ক্ষুদ্র কণাকে বলা হয় ন্যানোপ্লাস্টিক। খালি চোখে এসব কণা দেখা যায় না।
এর আগে মানুষের মস্তিষ্ক, চোখ, ফুসফুস এবং গর্ভফুলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। এবার হৃদ্যন্ত্রেও একই ধরনের কণার সন্ধান পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইতালির স্যাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা হৃদ্রোগীদের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখেছেন, এসব প্লাস্টিক কণা ধমনীর চর্বিযুক্ত স্তর বা প্লাকের সঙ্গে জমা হচ্ছে। এতে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং ধমনী সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের বোতল, খাদ্য মোড়ক, প্লাস্টিকের পাত্র, দূষিত বাতাস এবং ধূমপানের মাধ্যমে এসব কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকে রক্তের মাধ্যমে তা বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ও হৃদ্রোগের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, প্লাস্টিকই সরাসরি হৃদ্রোগের কারণ—এমনটি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্লাস্টিকের একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্য কম ব্যবহার করা, কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ কিছুটা কমানো সম্ভব।
