২৪ঘন্টা অনলাইন : সাদা-কালো পালক আর ভোরের মিষ্টি শিস নিয়ে জাতীয় পাখি দোয়েল একসময় গ্রামবাংলার নিত্যদিনের ছবি ছিল। আজ সেই পরিচিত শিস ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে, আর এর পেছনে বড় কারণ কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার।
গত পাঁচ বছরে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮১.৫ শতাংশ, যা মূলত প্রয়োগ হচ্ছে ধান, সবজি ও ফল উৎপাদনে। দোয়েল মূলত পোকামাকড়ভুক পাখি কীটনাশক পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় এর খাদ্যের উৎসই হারিয়ে যাচ্ছে। বিষাক্ত পোকা খেয়ে পাখির দেহে রাসায়নিক জমা হয়, যা প্রজনন ক্ষমতা ও ছানার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এর সঙ্গে জলাভূমি ও গাছপালাময় প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসও সংকট বাড়াচ্ছে।
বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনাল এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৯ শতাংশ পাখি প্রজাতির সংখ্যা কমছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটের মতো শহরেও গত এক দশকে চড়ুই, শালিক ও দোয়েলের সংখ্যা দ্রুত কমেছে। শুধু পাখি নয়, কীটনাশকের প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যেও পড়ছে হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
দোয়েলকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব কীটনাশকের প্রসার, প্রয়োজন ছাড়া রাসায়নিক প্রয়োগ বন্ধ, প্রাকৃতিক বাসস্থান সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এখনই সচেতন না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো দোয়েলকে শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখবে।
