২৪ঘণ্টা অনলাইন : উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাড়তে থাকে। এ কারণে এটিকে ‘নীরব সমস্যা’ বলা হয়। রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল জমলে ধমনিতে চর্বির আস্তরণ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স ও বংশগত কারণের পাশাপাশি প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেও হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
১. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত নাস্তা: মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ, পনির, ক্রিম, কেক, পেস্ট্রি ও ভাজাপোড়া খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। তাই খাবারের তালিকায় কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত বিকল্প রাখা জরুরি।
২. স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খাওয়া: বাদাম, বীজ ও কিছু তেল স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে পুষ্টিকর খাবারও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকসের অতিরিক্ত গ্রহণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি ও ক্যালোরি বাড়াতে পারে।
৩. দীর্ঘ সময় বসে থাকা: নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বড় অংশ যদি বসে কাটে, তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। শারীরিক কার্যক্রম এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো সহজ অভ্যাসও উপকারী। দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করাও জরুরি।
৪. চিনিযুক্ত পানীয়ের অভ্যাস: সফট ড্রিঙ্কস, মিষ্টি ফলের পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি শরীরে বাড়তি চিনি ও ক্যালোরি যোগ করে। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ ওজন বাড়াতে পারে এবং সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. ধূমপান ও তামাক: ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীরও ক্ষতি করে। এটি ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কমাতে এবং রক্তনালীর ক্ষতির মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সুস্থ থাকতে খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনি কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাও জরুরি।
