শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

বিয়েতে বয়সের ব্যবধান নিয়ে গবেষণার ফল

প্রকাশিত - ২১ আগস্ট, ২০২৬   ১২:১৯ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন :  দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, বয়সের পার্থক্য সম্পর্কের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী দাম্পত্যের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগ ও মানসিক পরিপক্বতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ৭ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকলে অনেক ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। তবে ১০ বছর বা তার বেশি ব্যবধানও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা নয়, যদি দুজনের মূল্যবোধ, জীবনযাপন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মিল থাকে। বয়সের ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে জীবনধারা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মতপার্থক্যের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

তবে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে কোনো দাম্পত্যের সাফল্য বিচার করা যায় না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মান, খোলামেলা যোগাযোগ, একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার মানসিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অবশ্য বয়স গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী ও পুরুষের প্রজননক্ষমতায় বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে এবং কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর মান ও প্রজননক্ষমতায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা যায়, ১ থেকে ৩ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকা এবং পুরুষ সঙ্গী বয়সে কিছুটা বড়—এমন দম্পতিদের সম্পর্কের সন্তুষ্টির মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি বয়সের ব্যবধানকে দাম্পত্য সুখের একমাত্র নির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি।

অর্থাৎ, স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য যতই হোক, সম্পর্কের স্থায়িত্ব অনেকটাই নির্ভর করে দুজনের মানসিক মিল, পারস্পরিক যত্ন, শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একই পথে এগিয়ে চলার ওপর। তাই দাম্পত্যের ক্ষেত্রে বয়সের সংখ্যা নয়, বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন