২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে—সাদা ডিম বেশি পুষ্টিকর, নাকি বাদামি? প্রচলিত ধারণায় বাদামি ডিমকে অনেকে বেশি পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক মনে করেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিমের খোসার রং দেখে এর পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
মূলত মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ডিমের খোসার রং সাদা, বাদামি কিংবা নীলচে-সবুজ হতে পারে। তাই শুধু রঙের পার্থক্যের কারণে কোনো একটি ডিমকে বেশি পুষ্টিকর বলা যায় না।
খোসার রং ভিন্ন হয় : ডিমের খোসার রং মূলত নির্ভর করে মুরগির জাত ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওপর। হোয়াইট লেগহর্ন, হোয়াইট রক ও কর্নিশ জাতের মুরগি সাধারণত সাদা ডিম দেয়। অন্যদিকে প্লাইমাউথ রক, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি সাধারণত বাদামি ডিম পাড়ে।
কিছু জাতের মুরগি আবার নীল বা নীলচে-সবুজ রঙের ডিমও দেয়। মুরগির শরীরে তৈরি প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থের কারণেই ডিমের খোসায় এসব রঙের পার্থক্য দেখা যায়।
এমনকি একই জাতের মুরগির ডিমের রংও বয়স, অসুস্থতা, পরিবেশ ও মানসিক চাপের কারণে কিছুটা হালকা বা গাঢ় হতে পারে।
পুষ্টিতে পার্থক্য রঙে নয় : মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য ও বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, সাদা কিংবা বাদামি—শুধু খোসার রঙের কারণে ডিমের মৌলিক পুষ্টিগুণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হয় না।
ডিমের আকারের কারণে অবশ্য ক্যালরি ও প্রোটিনের পরিমাণে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। একইভাবে ডিমের স্বাদও খোসার রঙের চেয়ে এর সতেজতা, মুরগির খাবার এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর বেশি নির্ভর করে।
ডিমের পুষ্টিমান নির্ধারণ করে মুরগির খাবার : ডিমের পুষ্টিগুণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মুরগির খাদ্য ও পালন-পদ্ধতি। গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির খাবারে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান যোগ করলে ডিমেও সেই পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
যেমন, তিসিবীজের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার মুরগিকে খাওয়ালে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। একইভাবে ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য দিলে ডিমে নির্দিষ্ট ভিটামিনের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব।
উন্মুক্ত পরিবেশে পালন করা মুরগির ডিমে খাঁচায় পালন করা মুরগির ডিমের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভিটামিন ডি পাওয়া যেতে পারে।
বাদামি ডিমের দাম বেশি : বাদামি ডিম বেশি দামের একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। অতীতে বাদামি ডিম পাড়া মুরগি সাধারণত আকারে বড় হওয়ায় তাদের খাবারের চাহিদা বেশি ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে ডিম উৎপাদনও তুলনামূলক কম ছিল। ফলে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ত।
বর্তমানে উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এলেও বাদামি ডিমকে বেশি পুষ্টিকর মনে করার প্রচলিত ধারণা এবং অরগানিক বা ফ্রি-রেঞ্জ ডিমের বড় একটি অংশ বাদামি হওয়ায় এসব ডিমের দাম অনেক সময় বেশি থাকে।
ডিম কেনার সময় যা দেখবেন : ডিম কেনার ক্ষেত্রে খোসার রঙের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সতেজতা, সংরক্ষণ এবং উৎপাদন পদ্ধতি। পরিষ্কার ও অক্ষত খোসার ডিম বেছে নেওয়া উচিত। প্যাকেটজাত ডিমের ক্ষেত্রে মেয়াদ, সংরক্ষণবিধি ও মান নিয়ন্ত্রণের তথ্যও দেখা জরুরি।
অরগানিক বা ফ্রি-রেঞ্জ ডিম কিনতে চাইলে প্যাকেটের তথ্য ও উৎপাদনকারীর দাবিগুলো যাচাই করা ভালো।
সবশেষে বলা যায়, বাদামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর এবং সাদা ডিম মানেই কম পুষ্টিকর—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডিমের পুষ্টিমান নির্ধারণে খোসার রঙের চেয়ে মুরগির খাদ্য, পালন-পদ্ধতি, ডিমের সতেজতা ও সংরক্ষণব্যবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
