শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা, নিয়ন্ত্রণে আনতে বদলান দৈনন্দিন অভ্যাস

প্রকাশিত - ১৩ অক্টোবর, ২০২৬   ০৪:০৪ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: পেট ভরা, তবু ফ্রিজ খুলে মিষ্টি খোঁজা কিংবা কাজের ফাঁকে বারবার চিপস, বিস্কুট ও চকোলেট খেতে ইচ্ছে করা—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। প্রকৃত খিদে না থাকলেও মস্তিষ্কে সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা ঘুরপাক খাওয়ার এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ফুড নয়েজ’।

সহজ ভাষায়, শরীরের খাবারের প্রয়োজন না থাকলেও সুস্বাদু খাবার খাওয়ার চিন্তা বারবার মনে আসা কিংবা খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করাই ফুড নয়েজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে এ ধরনের প্রবণতা বাড়তে পারে।

কেন হয় ফুড নয়েজ?

১. মানসিক চাপ ও একাকিত্ব : উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের সময় অনেকেই স্বস্তি পেতে মিষ্টি, ভাজাপোড়া কিংবা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের দিকে ঝোঁকেন। এসব খাবার সাময়িক আনন্দ দিলেও বারবার এভাবে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

২. খাবারের দৃশ্য ও গন্ধ : সুস্বাদু খাবারের ছবি দেখা, রান্নার গন্ধ পাওয়া কিংবা অন্যকে খেতে দেখলেও খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। তখন প্রকৃত খিদে না থাকলেও খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।

৩. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ; সময়মতো খাবার না খাওয়া কিংবা খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও আঁশের ঘাটতি থাকলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: রাতে কম ঘুমানো বা ঘুমের মান খারাপ হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।

ফুড নয়েজ কমাবেন যেভাবে

১. সুষম খাবার খান: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি, ফল ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

২. অস্বাস্থ্যকর খাবার হাতের কাছে রাখবেন না: কাজের টেবিলে চিপস, বিস্কুট বা চকোলেট সাজিয়ে না রেখে ফল, বাদাম কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় খাবার অর্ডার করার প্রবণতা কমাতে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের নোটিফিকেশনও বন্ধ রাখতে পারেন।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

৪. খিদে নাকি খাবারের প্রতি আকর্ষণ, বুঝুন : খেতে ইচ্ছে করলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, সত্যিই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি একঘেয়েমি, দুশ্চিন্তা কিংবা খাবারের গন্ধ থেকে এই ইচ্ছা তৈরি হয়েছে? প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে হাঁটুন, পানি পান করুন বা অন্য কাজে মন দিন। তবে প্রকৃত খিদে পেলে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন না।

৫. মনোযোগ দিয়ে খাবার খান: মোবাইল বা টেলিভিশন দেখতে দেখতে খাওয়ার বদলে খাবারের স্বাদ ও পরিমাণের দিকে মনোযোগ দিন। ধীরে ধীরে খেলে শরীরের তৃপ্তির সংকেত বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

৬. নিজেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চাপে রাখবেন না: পছন্দের খাবার একেবারে নিষিদ্ধ করে দিলে কারও কারও ক্ষেত্রে সেই খাবারের প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়তে পারে। তাই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?

খাবারের চিন্তা যদি সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে, বারবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতিরিক্ত খাওয়ার ঘটনা ঘটে কিংবা ওজন ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাহলে চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মনে রাখতে হবে, ফুড নয়েজ নিজে কোনো স্বতন্ত্র চিকিৎসাগত রোগনির্ণয় নয়। তবে এর পেছনে মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রয়োজনমতো বিশেষজ্ঞের সহায়তা এ ধরনের প্রবণতা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন