২৪ঘণ্টা অনলাইন ডেস্ক : গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও গাজায় প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার শুরু হলেও সেখানে হামলা বন্ধ হয়নি। গাজায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত প্রায় ১০০টি সংস্থার তথ্যেও হতাহতের বিষয়টি উঠে এসেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে জবাবদিহি চাপা দেওয়া যাবে না।’ সংস্থাটির অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ কমছে না।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
অব্যাহত হামলার পাশাপাশি গাজায় খাদ্যসংকট, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসাব্যবস্থার বিপর্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়া ও চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহত ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরুর আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেই পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
