২৪ঘন্টা অনলাইন: গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসআরবি-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার হাসান আলী (৬৯) সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ির মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত পরিচালক হাসান আলী গত প্রায় ৬ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা পরিচালককে ফোন করেন। তখন পরিচালক মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
গত ২৮ আগস্ট ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে অভিযুক্ত পরিচালক ভুক্তভোগীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে প্রবেশ করলে ধর্ষণ করেন হাসান আলী। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যা ও মরদেহ গুম করার হুমকি এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কৌশলে মোবাইল ফোনে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় ভুক্তভোগী। ৩১ আগস্ট গাইবান্ধায় এসে মেয়ের মুখে ঘটনা শুনে গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্পের) একটি আভিযানিক দল পলাশবাড়ী থানাধীন ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী ট্রাভেলস বাস কাউন্টারের সামনে থেকে প্রধান আসামি হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আসামিকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক স্বপন কুমার রায় বলেন, এসআরবি ধর্ষণ মামলার আসামি হাছান আলীকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
