শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩
সুগারের মাত্রার গত তিন মাসের গড় অর্থাৎ এইচবিএ১সি রক্তপরীক্ষা করানো হয়। সে ক্ষেত্রে ৫.৭ শতাংশ স্বাভাবিক, ৫.৭-৬.৪ শতাংশ প্রি-ডায়াবিটিস এবং ৬.৫ শতাংশে পৌঁছে গেলে তা ডায়াবিটিস।

দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার সঠিকমাত্রা

প্রকাশিত - ০৫ নভেম্বর, ২০২৬   ১০:৪৭ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন: এখন ঘরে ঘরে ডায়াবিটিস এবং প্রি-ডায়াবিটিসের রোগী। বাড়িতে তাই গ্ল‍ুকোমিটারও কিনে রাখেন তাঁরা। কারণ, রক্তে শর্করার মাত্রা দিনভর এক রকম থাকে না। আপনি কী খাচ্ছেন, কতটা শারীরচর্চা করছেন, ঘুম কেমন হচ্ছে, মানসিক চাপ রয়েছে কি না, এমন নানা বিষয়ের উপর তা নির্ভর করে। তাই চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ধরনের পরীক্ষাও করান। দিনের কোন সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা থাকা স্বাভাবিক, তা জানাচ্ছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।

ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করা হয় অন্তত ৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর। শরীর খাবার না পেলে কী ভাবে রক্তে গ্ল‍ুকোজ়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে, এই পরীক্ষায় তার ধারণা পাওয়া যায়। অন্য দিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা ভরাপেটেও সুগার পরীক্ষা করা হয়। খাওয়ার দু’ঘণ্টা পর। এতে খাবার থেকে পাওয়া গ্ল‍ুকোজ় শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারছে, তা বোঝা যায়।

স্বাভাবিক মাত্রার তালিকা দিলেন চিকিৎসক —

• খালি পেটে ব্লাড সুগার যদি ১১০-এর নীচে থাকে, তা হলে তা স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবিটিস। আর ১২৬ ছুঁয়ে ফেললে তা ডায়াবিটিস, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

• মূলত মধ্যাহ্নভোজের দু’ঘণ্টা পরে পরীক্ষা করেন রোগীরা। খাওয়ার পরে যদি ১৪০-এর নীচে থাকে, তা হলে তা স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে থাকলে তা প্রি-ডায়াবিটিস এবং মাত্রা ২০০-র বেশি থাকলে তা ডায়াবিটিসের সঙ্কেত দেয়।

• সুগারের মাত্রার গত তিন মাসের গড় অর্থাৎ এইচবিএ১সি রক্তপরীক্ষা করানো হয়। সে ক্ষেত্রে ৫.৭ শতাংশ স্বাভাবিক, ৫.৭-৬.৪ শতাংশ প্রি-ডায়াবিটিস এবং ৬.৫ শতাংশে পৌঁছে গেলে তা ডায়াবিটিস।

ডা. আশিস মিত্র বলছেন, ‘‘খালি পেটে ব্লাড সুগার ৯০ থেকে ১১০-এর মধ্যে আর ভরা পেটে সাধারণত ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। বাড়িতে যাঁরা সুগার মাপেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, কেবল দিনে এক বার করে পরীক্ষা করলে হবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে হবে। কারণ, কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু এইচবিএ১সি ৬.৫ শতাংশের

যদি কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর সুগার চেক করেন, তা হলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। হয়তো বা প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু পরীক্ষা করেন না বলে জানতে পারেন না। এমনও হতে পারে, সুগার কমে গিয়ে খিদে পাচ্ছে, তখন পেট ভরে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন, আর সেই সময়ে সুগারটা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।’’ তাই প্রত্যেক বার খাবার খাওয়ার দু’ঘণ্টা পর কিংবা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভোজের পর সুগার মাপা উচিত, কেবল এক বেলা নয়। তা হলেই সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।

তা ছাড়া হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা নিয়েও সতর্ক থাকা উচিত বলে মত চিকিৎসক। তিনি জানাচ্ছেন, ৭০-এ সুগার নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া। তাই ৮০-র উপরে রাখা দরকার সব সময়ে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
পোশাক যতই নজরকাড়া হোক, ত্বক যদি রুক্ষ হয়, তা হলে সাজগোজই মাটি। বিশেষত দীপাবলি বা কালীপুজোয় হল্টারনেক বা কাঁধখোলা ব্লাউজ় পরলে, ত্বকের জেল্লা থাকাও জরুরি। কিন্তু এখন থেকেই বাতাসে আর্দ্রতা কমছে। কিছুক্ষণ এসি ঘরে থাকলেই ত্বকে টান ধরছে।
প্রতিদিন পরিমিত কলা খাওয়া হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আঁশ ও ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া এবং কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম গ্রহণে সতর্ক থাকা জরুরি।
স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মধু রাখতে পছন্দ করেন। তবে বাজারে মধু কেনার সময় এর বিশুদ্ধতা, গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
জ্বর হলেই গলা ব্যথা, গায়ে ব্যথা দোসর হয়। এমন সময়ে গরম খাবারে স্বস্তি মেলে। তবে ঘন ঘন চা-কফি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এই সময়ে এমন খাবার বেছে নিন যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ওজন বেড়েছে। উৎসবের অজুহাতে ভালমন্দ খেয়েছেন, তার প্রভাব শরীরে দেখা দিতেই পারে। তাই এই সব বাড়তি ক্যালোরি দ্রুত ঝেরে ফেলা জরুরি। নিয়মিত যোগাসন সব সময়েই শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। কোন কোন ব্যায়াম করলে ওজন কমবে, তা জেনে রাখা জরুরি।