শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩
জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের ধীরগতিতে চাপে পড়েছে দেশের বৈদেশিক লেনদেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে। একই সময়ে জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য।

জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় দ্বিগুণ, বাণিজ্য ঘাটতি ৭৪৭ কোটি ডলার

প্রকাশিত - ০৫ নভেম্বর, ২০২৬   ১১:৪৩ পিএম
webnews24
ছবি : সংগৃহীত

২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে। আমদানি ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের তুলনামূলক ধীর প্রবৃদ্ধিতে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এর ফলে অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বাণিজ্য ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। এ সময়ে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার। আর পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৮৩৮ কোটি ডলার। দুইয়ের ব্যবধানেই বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে।

জ্বালানি আমদানিই বাড়াচ্ছে ডলারের ব্যয়ের চাপ

বৈদেশিক বাণিজ্যের এই ভারসাম্যহীনতার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠেছে জ্বালানি আমদানি। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪২২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ।

জ্বালানির জন্য বাড়তি ডলার ব্যয় করতে হওয়ায় অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত গতি আসছে না। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান ক্রমেই বড় হচ্ছে।

রেমিট্যান্স বাড়লেও ঘাটতি কমছে না

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও বৈদেশিক লেনদেনের চাপ কাটছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তারপরও চলতি হিসাবে ১৩৩ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স থেকে আসা ডলারের পরিমাণ কম থাকায় চলতি হিসাব ঘাটতিতে চলে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াই চলতি হিসাবের ঘাটতির প্রধান কারণ। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লেও অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় সামাল দেওয়ার মতো পর্যায়ে তা পৌঁছায়নি।

বিদেশি অর্থায়নে কিছুটা স্বস্তি, তবে আগের চেয়ে কম

বৈদেশিক লেনদেনের আর্থিক হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ঘাটতি থাকলেও তিন মাস শেষে এ হিসাবে ৩২ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, বিদেশি অনুদান ও ঋণপ্রবাহ বাড়ায় এ উন্নতি হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৭৯ কোটি ডলার। ওই সময়ে বিদেশি ঋণ এসেছিল ১০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণ এসেছে আগের বছরের একই সময়ের প্রায় অর্ধেক।

সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেও বাড়ছে ঘাটতি

শুধু বাণিজ্য বা চলতি হিসাব নয়, দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থাও দুর্বল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি ব্যয়ের চাপ, রপ্তানি আয়ের সীমিত প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি অর্থায়ন কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক খাতে। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো থাকলেও অন্যান্য খাতের ঘাটতি পূরণে তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংগ্রহে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, সাময়িক এই চাপ কাটিয়ে দেশের বৈদেশিক লেনদেন আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ‘আমরা নারী’র নিবন্ধিত সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এরিস্টো আই হাসপাতালের নির্ধারিত বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ছাড় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন। এর মাধ্যমে সদস্যদের জন্য মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে।
দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দেশের উদ্যোক্তা খাতকে টেকসই সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৬টি জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের উদ্যোক্তা খাতকে টেকসই ও গতিশীল করতে ১৬টি জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১’- এর আওতায় এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (এমটিআই) বাস্তবায়নে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।
নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাস অক্টোবরে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা।
চলতি মৌসুমে দুবলার চর থেকে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ গতবারের আদায়ের তুলনায় এবার ৭৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বন বিভাগ।