২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় জমা পড়া যোগ্য সব আবেদন নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যোগ্য আবেদনকারী নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।
৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার আরাংঘাটায় একটি কালীপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সিএএর আওতায় নাগরিকত্ব চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ আবেদন জমা পড়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এ দুই জেলায় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মানুষের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব আবেদন ঝুলে থাকায় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের (ডিএম) স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদন নিষ্পত্তির কাজে গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে আন্তর্জাতিক মাতুয়া গোসাঁই সম্মেলনেও একই সময়সীমার কথা জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সিএএর আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
একই সঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সিএএ বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে বহু আবেদন দীর্ঘদিন আটকে ছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে পাস হয়। আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্বের সনদ বিতরণ করা সম্ভব হয় কি না।
