কৃষিবিদ রাজিয়া সুলতানা : এই ফুলের নাম নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি। এই ফুল একেক জনের কাছে একেক নামে পরিচিত। সবচেয়ে প্রচলিত ভুলটি হচ্ছে আমরা একে মাধবীলতা নামে ডাকি। আসলে মানুষের মুখে মুখে মাধুরী লতা হয়ে গেছে মাধবী লতা। আসলে এর কোনো বাংলা নাম ছিলো না। শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ এর নামকরণ করেন মধুমঞ্জরী লতা। তাঁর নিজের কথায় –
“এ লতার কোনো-একটা বিদেশী নাম নিশ্চয় আছে-- জানি নে, জানার দরকারও নেই। আমাদের দেশের মন্দিরে এই লতার ফুলের ব্যবহার চলে না, কিন্তু মন্দিরের বাহিরে যে দেবতা মুক্তস্বরূপে আছেন তাঁর প্রচুর প্রসন্নতা এর মধ্যে বিকশিত। কাব্যসরস্বতী কোনো মন্দিরের বন্দিনী দেবতা নন, তাঁর ব্যবহারে এই ফুলকে লাগাব ঠিক করেছি, তাই নতুন করে নাম দিতে হল। রূপে রসে এর মধ্যে বিদেশী কিছুই নেই, এদেশের হাওয়ায় মাটিতে এর একটুও বিতৃষ্ণা দেখা যায় না, তাই দিশী নামে একে আপন করে নিলেম।
প্রত্যাশী হয়ে ছিনু এতকাল ধরি,
বসন্তে আজ দুয়ারে, আ মরি মরি,
ফুলমাধুরীর অঞ্জলি দিল ভরি
মধুমঞ্জরিলতা।
কতদিন আমি দেখিতে এসেছি প্রাতে
কচি ডালগুলি ভরি নিয়ে কচি পাতে
আপন ভাষায় যেন আলোকের সাথে
কহিতে চেয়েছে কথা।
বাড়ির মূল ফটকের উপর মাধবীলতা গাছ আর তাতে সাদা আর দুধে আলতা রংয়ের একঝাঁক ফুল। একটা সময় রুচিশীল অভিজাত বাঙালি বাড়িটা সাজত ঠিক এরকম ভাবেই। বর্ষায় সেই মাধবীলতার ভিজে গাছ থেকে ভেসে আসে আসত ফুলের সুবাস। টুপটুপ করে বৃষ্টি শেষে ঝরে পড়তো বৃষ্টির জল। বাড়িতে ঢোকার মুখে মূল ফটকেই থাকতো এরকম একটা দৃষ্টিনন্দন বিষয়। সেসব এখন কিছুটা কমে গেলেও পুরোপুরি অতীত হয়ে যায়নি। স্বল্প পরিসরে দু’কামরার ফ্ল্যাটেও মাধবীলতা গাছ এখনও অনেকেই বসান। কম জায়গায় বসানো এই গাছের পরিচর্যায় একটু বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী উপায়ে মাধবীলতা গাছের যত্ন নেবেন-
১. জায়গা অনুযায়ী টবের ব্যবস্থা করুন ও তাতে বসান মাধবীলতা গাছ। বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নেবেন কোকোপিট, বালি ও কম্পোস্ট সার। মাথায় রাখবেন এই গাছের ক্ষেত্রে কিন্তু জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিক হওয়া প্রয়োজন। মাধবীলতা গাছের গোড়ায় একেবারেই জল জমতে দেওয়া যাবে না। নাহলে গাছের গোড়া পচে গিয়ে গাছটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
২.মাটি তৈরির সময় হাড় গুঁড়ো বা এক চামচ ফসফেট, সার হিসেবে মাটিতে ব্যবহার করতেই পারেন। এছাড়াও অল্প জলে লালা পতাশ মিশিয়ে সার তৈরি করে মাধবিলতা গাছে স্প্রে করতে বা গাছের গোড়াতে দিতে পারেন। এর ফলে গাছের বৃদ্ধিও যেমন হবে তেমনি প্রচুর ফুল আসবে গাছে।
৩. রাসায়নিক সার আপনার সখের গাছে দিতে না চাইলে ব্যবহার করতে পারেন কলার খোসা ভেজানো জল অথবা সরষের খোল। তিন থেকে চার দিন সরষের খোল ভিজিয়ে রেখে তাতে ভাতের ফ্যান ও জল মিশিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন সার। যা মাধবীলতা গাছের জন্যও বিশেষভাবে উপকারি।
৪. মাধবীলতা গাছের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রয়োজন। অন্ততপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পড়ে বাড়ির এমন জায়গাতে এই গাছটি বসাবেন।
দু'কামরার ফ্ল্যাটেও মাধবীলতা গাছ এখনও অনেকেই বসান। কম জায়গায় বসানো এই গাছের পরিচর্যায় একটু বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নেবেন কোকোপিট, বালি ও কম্পোস্ট সার। মাথায় রাখবেন এই গাছের ক্ষেত্রে কিন্তু জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিক হওয়া প্রয়োজন।
অল্প জলে লালা পতাশ মিশিয়ে সার তৈরি করে মাধবিলতা গাছে স্প্রে করতে বা গাছের গোড়াতে দিতে পারেন।
