শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

শয়তানের যে ১০টি দুয়ার বন্ধ হতে যাচ্ছে

প্রকাশিত - ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ১১:০৯ এএম
webnews24

চলছে আখেরি জমানা। আজকের পৃথিবীতে এমন কোন অপরাধ নেই যা মানুষ করছে না। বিধর্মী থেকে ধার্মিক এমন কোন মানুষ নেই যে শয়তানের কুমন্ত্রনায় জর্জরিত নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে- এ্যাপেস্টাইন ফাইল আমাদের নিকট প্রমাণ করে, মানুষই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পশু। তবে বছরের একটি মাসে আল্লাহ শয়তানের লাগাম টেনে ধরেন। সেই মাসটির নাম হল রমজান। খুশির সংবাদ এই যে, সেই মাসটি আমাদের অতি সন্নিকটে। আসুন আমরা জেনে নেই শয়তানের এমন ১০ টি দুয়ারের কথা, যা রমজান মাস আসার পূর্বেই বন্ধ হতে থাকে। 

১. পাপের দরজা- পাপের দরজা মানুষকে পাপ কাজে উৎসাহিত করে। মানুষ পাপ করে কিন্তু তওবা করতে চায় না। অথচ তওবা করা সব সময় ওয়াজিব। তবে রমজানের আগমনেই মানুষের অন্তর নরম হতে থাকে। অনুশোচনা বোধ জাগ্রত হয়। মানুষ বেশি বেশি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার কারণে পাপের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘মুমিনরা, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে সফল হতে পারো।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩১)
এ বিষয়ে রাসুল সাঃ বলেন, ‘হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। আমি প্রতিদিন তাঁর কাছে ১০০ বার তাওবা করি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২,৭০২)

২. আল্লাহ বিমুখ হওয়ার দরজা: আজকাল মানুষ এমন জীবন যাপন করে যে, আল্লাহ আছেন তার স্মরণেই থাকে না। তবে রমজানের আগমনেই মানুষের অন্তরে অন্তরে আল্লাহর নাম স্মরণ হতে থাকে। এ মাসে মানুষ এমন ভাবে আল্লাহকে ডাকতে থাকে, যেন কোনদিন সে দুনিয়াদার ছিল না। ইবাদতের একাগ্রতায় ধীরে ধীরে আল্লাহ বিমুখ হওয়ার দরজাটিও বন্ধ হয়ে যায়। 

৩. পৃষ্ঠ প্রদর্শনের দরজা: মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা এমন উগ্রভাবে চলে যে, যেন সে বিধর্মী। তবে ঐ মুসলমানরাই রমজান আসলে এমন খুশি হন যে, তারা যেন ইবাদত করার জন্যেই ব্যাকুল হয়ে আছে। রমজানের আগমনে তাদের খুশির কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাফ করে দেন। ফলত শয়তানের পৃষ্ঠ প্রদর্শনের দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘রাসূল! আপনি বলুন, এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। এটি তারা যা নিয়ে আনন্দিত ছিল, তা থেকে উত্তম।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮)

৪. নাস্তিকতার দরজা: রমজান মাসের আগমনে মানুষ ধীরে ধীরে ধর্ম কর্মের দিকে ঝুঁকে। বিগত জীবনের ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা ও ফরজ এবাদত গুলো আদায় করতে থাকে। এতে নাস্তিকতার দরজাও বন্ধ হতে থাকে। এ বিষয়ে আবু সালামা রাঃ বলেন, আমি আয়েশা রাঃ কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর বিগত রমজানের রোজা বাকি থাকলে শাবান মাস ছাড়া আমি তা আদায় করতে পারতাম না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১,৮৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,১৪৬)

৫. দুনিয়াবি অস্বাভাবিক ব্যস্ততার দরজা: সারা বছর মুসলমানদের ভেতরে ইবাদতের নাম গন্ধও থাকে না। তাদের দুনিয়াবি অস্বাভাবিক ব্যস্ততায় মনে হয় কোনদিন তারা মরবে না। কিন্তু সেই মানুষগুলোই যখন রমজানের আগমনে সকল ব্যস্ততার প্রতিবন্ধকতা ঝেড়ে ঝুড়ে ইবাদত বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে, তখন ধীরে ধীরে শয়তানের অস্বাভাবিক ব্যস্ততার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। 

৬. অধর্মীয় পরিবার ব্যবস্থার দরজা: এমন অনেক মুসলিম পরিবারই আছে, যে পরিবারে ইসলামী কোনো অনুশীলনই চর্চা করা হয় না। তবে রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে তারা একটি নিয়মিত ‘ধর্মীয় মজলিস’ আয়োজন করে। যে মজলিসের বিষয়বস্তু থাকে- রোজা, তারাবিহ, সাহরি, ইফতার, ইতিকাফ, জাকাত ও সাদাকাতুল ফিতরের জরুরি মাসআলা-মাসায়িল। এভাবে প্রতিদিন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলায় ধীরে ধীরে শয়তানের অধর্মীয় পরিবার ব্যবস্থার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। 

৭. অসহিষ্ণু-অসংযমের দরজা: মুসলিম সমাজ রমজানের রোজার প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসেই কিছু রোজা ও এবাদত বন্দেগিতে মশগুল হয়ে যায়। রোজা ও এবাদত ধীরে ধীরে শয়তানের অসহিষ্ণু-অসংযমের দরজা বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন- আমি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের গোটা অংশ রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১,৮৬৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,১৫৬)

৮. আল্লাহর ধ্যানজ্ঞান হটানোর দরজা: এমন অনেক মুসলিম পরিবার আছে যাদের ঘরে কোরআন শরীফ নেই। এমনও অনেক মুসলিম পরিবার আছে যাদের সদস্যরা কোরআন শরীফ পড়তেও পারে না। কোরআন নাজিলের মাস রমজান। তাই কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মাসও রমজান মাস। তবে রমজান মাস আসলে রোজার প্রস্তুতি স্বরূপ অনেকে কোরআন শরীফ অধ্যয়নে মনোনিবেশ করে। ফলত মানুষের মধ্যে আল্লাহর ধ্যানজ্ঞান সৃষ্টি হয়। তখন আল্লাহর ধ্যানজ্ঞান হটানোর শয়তানের যে দরজা, তা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- মু’মিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে, আর তাদের কাছে যখন আল্লাহর আয়াত পঠিত হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে। (আনফাল-২) 

৯. শারীরিক ও মানসিক অবসাদের দরজা: অনেককেই ইবাদতের কথা বললে অসুস্থতার অজুহাত দেয়। কিন্তু রমজান মাস আসলে তারা যেভাবেই হোক সুস্থ হতে চায়, ইবাদত করতে চায়। তাদের এই একাগ্রতা, একনিষ্ঠা ও রমজানের মাহাত্ম্য তাদেরকে সুস্থ করে দেয়। তখন ধীরে ধীরে শয়তানের শারীরিক ও মানসিক অবসাদের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। 

১০. দুনিয়াবি মরীচিকার দরজা: মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও অনেকে সানন্দেই হারাম কাজে লিপ্ত থাকে। কিন্তু রমজান মাস আসলে তাদের ভেতর আল্লাহর ভয়, রাসূলের ভালোবাসা জাগ্রত হয়। তখন তারা স্বচ্ছ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে আগেভাগেই দুনিয়ার ঝামেলা ও অনৈতিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গোছানো শুরু করে। নিজেকে এমনিভাবে ভেজালমুক্ত করতে করতে শয়তানের দুনিয়াবি মরীচিকার দরজাটাও বন্ধ হয়ে যায়। 

আল্লাহ তাআলা রমজানের উসিলায় শয়তানের সকল দরজা চীর জীবনের জন্য বন্ধ করে দিয়ে আমাদেরকে মুক্ত জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন