শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

যারা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়

প্রকাশিত - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ১২:৩০ পিএম
webnews24

ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রাচীন মিসরে ফেরাউনরা তাদের দেবতার মন্দিরে দাস হত্যা করত। শক্তি লাভের উদ্দেশ্যে কেনানের মানুষ মোলক নামের এক দেবতার উৎসর্গের জন্য শিশুদের আগুনে পোড়াত। অনেক তান্ত্রিকরা অমানবিক অত্যাচার করে পশুহত্যা করে রক্ত ঢেলে কালো মন্ত্র পড়ত। এই আধুনিক যুগেও এপেস্টাইনের মতো কিছু লোক শিশুদের চরম থেকে চরম নির্যাতন করে হত্যা করেছে। হাজার বছর ধরে আল্লাহর সাথে চলছে মানুষের ধোঁকাবাজি বা কালাজাদু। 

যখন মানবতা বিদায় নেয়; তখনই শয়তানের আবির্ভাব হয়। হয়তো সেই যুগেই আমরা। এখন ক্ষমতা, শক্তি, সম্পদের নেশায় জঘন্য কাজে পৃথিবীর একদল ক্ষমতাসীন লোক নিজেকে সম্পৃক্ত করছে। সেই চক্রের মারপ্যাঁচে আজ দলে দলে সাধারণ মানুষ নিজ আত্মা শয়তানের কাছে বিক্রি করছে। আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য— যেন আল্লাহ তাদের অবৈধ বাসনা পূরণে বাধ্য হন। 

কোরআনে ধোঁকাবাজকারীদের চরিত্র বর্ণনা করা হয়েছে—
আল্লাহ বলেন, কখনো কখনো অবিশ্বাসী লোকেরা বলে, আমরা বিশ্বাস করি। আবার এমন কিছু লোক আছে যাদের অন্তর বিভিন্ন রোগ দ্বারা ভরে রেখেছে অতপর আল্লাহ’ও তাদের মিথ্যার জন্য তাদের নির্মম শাস্তি ও আরো রোগ দান করেন। কখনো কখনো অনুভূতি শূন্য লোকেরা আল্লাহ ও বিশ্বাসীদের ধোকা দিতে চায়। যখন কোনো অনুভূতি শূন্য, অনাচারী লোকদের বলা হয়— জগতে এতো অনাচার কর না। তখন তারা বলে, আমরাতো ভালো কাজই করছি। আবার যখন কোনো নির্বোধ-বোকা লোকদের বলা হয়— তোমরা অন্যান্য সাধারণ মানুষদের মতো বিশ্বাস কর, তারা বলে, আহ। আমরা কি বোকা লোকদের মতো বিশ্বাস করব। 
কিছু বিদ্রুপকারী লোক আছে, যারা বিশ্বাসীদের বলে আমরা বিশ্বাস করি আর শয়তানদের বলে আমরা সাথে আছি। (বাকারা— ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪)

আল্লাহ এখানে পাঁচ প্রকারের ধোকাবাজদের কথা বলেছেন—
এক. প্রতারক : এরা মুখে মুখে ঈমানদার, আসলে এরা চরম বেইমান। এরা আপনাকে এতোটা উত্যক্ত করবে যে— আপনি চরম বিতৃষ্ণ হয়ে উঠবেন, সবকিছুই আপনার কাছে ঘৃণিত মনে হবে। অন্তর ভরে উঠবে শুধুই ঘৃণায়। অথচ আপনি চান ভালবাসতে। 
দুই. অন্যায়কারী : এরা আপনার ওপর এতো জোর জুলুম করবে যে আপনার জীবনটা মনে হবে জাহান্নাম। শুধু আগুন আর আগুন ছাড়া আপনি আর কিছুই দেখবেন না চোখে। আপনি তখন আল্লাহর থেকেও পৃথিবীকে বেশি ভয় পাবেন। এদের অত্যাচারের আতঙ্ক আপনার রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দিবে। আপনি কোনোদিন মাথা তুলতে পারবেন না। অথচ আপনি চান স্বাধীনতা। 
তিন. সন্দিগ্ধকারী : এমন এক শ্রেণীর লোক— এদেরকে আপনি সরাসরি ধরতে পারবেন না। এরা কাগজ কলমে সমাজসেবী, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এরা ভয়ংকর গডফাদার। এরা আপনাকে চরম সন্দেহে ভোগাবে। সত্যমিথ্যার পার্থক্য করাটা দুরূহ হয়ে পড়বে। আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমান হারিয়ে যাবে। জীবন পরিপূর্ণ ঘোলা হয়ে উঠবে। অথচ আপনি চান স্পষ্টতা। 
চার. ধ্বংসকারী : এরা এমন একদল লোক যারা পৃথিবীতে এসেছে শুধু ক্ষতিসাধন করতে। এদের কারণে আপনি হয়তো জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলবেন। এদের কার্যকলাপ সবসময় আপনাকে দুশ্চিন্তার মধ্যে রাখতে চাইবে। দুশ্চিন্তা হতে হয়তো আপনার মস্তিষ্ক কিছুতেই রেহাই পাবে না। অথচ আপনি থাকতে চান মুক্ত, ভাবনাহীন জীবন। 
পাঁচ. অনিয়মকারী : এরা এমন একদল লোক যাদেরকে আপনি কোনো সভ্যতা বুঝাতে পারবেন না। অনিয়মই এদের নিয়ম। এদের উপস্থিতি আপনাকে লজ্জিত, লাঞ্ছিত, অপমানিতই করবে। হতে পারে এরা আপনার সন্তান, আপনার স্বামী, আপনার স্ত্রী ইত্যাদি। না পারবেন এদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, না পারবেন এদের নিয়ে চলতে। অথচ আপনি চান সম্পর্ক ও সম্মান। 

মানুষের জীবনকে ঘৃণিত, শঙ্কিত, দ্বিধাগ্রস্ত, পেরেশান ও লাঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী একদল লোক। এদের কার্যকলাপকেই কোরআনের ভাষায় ব্লাকমেইল বলে। এদেরই একটি রূপ এপেস্টাইন। ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে- এই এপেস্টাইনের মতো শয়তানের দাস ও শয়তানের আখড়া সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি বাংলাদেশেও আছে এদের আখড়া। এর কিঞ্চিত ধারণা পেতে আপনারা সার্চ করতে পারে— তৌসিফ মাহমুদের ‘চক্র’ সিরিজটি। মানবসমাজ দিন দিন উর্ধ্বমুখী ভয়ংকর এক নেশায় পড়ে চরম পশুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। 

আল্লাহ আমাদের চিন্তা-চেতনাকে শয়তানের প্রভাব হতে মুক্ত রাখুন। আমিন। 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন