শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

রোজা নষ্টের ৬ কারণ

প্রকাশিত - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ১২:০০ পিএম
webnews24

রোজা মুসলিম জীবনের এমন একটি অনুশীলন যার মাধ্যমে মোসলমানেরা দেহ, অন্তর ও জীবনের দুর্বোধ্য ও জটিলতার সমাধান লাভ করে এবং নতুন একটি জীবনের সূচনা করে। তবে ইসলামে অসংযম ও অপবিত্র এমন কিছু বিষয় আছে যা রোজাকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় এবং রোজা ভেঙে যায়। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে ৬ টি কারণ উল্লেখ আছে, আসুন জেনে নেয়া যাক কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়।
 
১. স্ত্রী সহবাস করা (বুখারি ১৯৩৬)
স্ত্রী সহবাস ইসলামে একটি অসংযম ও অপবিত্র কাজ। এটা একটি বৈধ কাজ হলেও রোজা অবস্থায় তা সম্পূর্ণ হারাম। রোজা অবস্থায় তা করলে রোজা ভেঙে যাবে। আল্লাহ চান- মানুষ দেহের চাহিদা হতে নিজেকে মুক্ত করে আত্মিক চাহিদার উপর মগ্ন হোক। তাই রোজার মাধ্যমে দৈহিক চাহিদা হারাম করে দিয়ে আত্মিক চাহিদা পূরণের আহ্বান জানান আল্লাহ তায়ালা। 

২. ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত ঘটানো (বুখারি ১৮৯৪) 
ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত ইসলামে একটি অসংযম ও অপবিত্র কাজ। এটা সবসময়ই একটি হারাম কাজ। তবে রোজা অবস্থায় তা ডাবল হারাম। রোজা অবস্থায় তা করলে রোজা ভেঙে যাবে। আল্লাহ চান- মানুষ অপারগ হয়েও হারাম কাজ না করুক। তাই রোজার মাধ্যমে হারাম কাজকে ডাবল হারাম ঘোষণা করে পরিপূর্ণ পাক সাফ জীবনের আহ্বান জানান আল্লাহ তায়ালা। 

৩. পানাহার করা (সুরা বাকারা- ১৮৭)
পানাহার করা ইসলামে পবিত্র তবে অসংযমী কাজ। আর রোজা অবস্থায় পানাহার করাকে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে। রোজা অবস্থায় তা করলে রোজা ভেঙে যাবে। আল্লাহ চান- মানুষ নিজেদের পানাহারে লাগাম টানুক। পানাহার মানব জীবনের একটি অপারগতা। রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা শিক্ষা দেন- পানাহারে বিলাসীতা করে অসংযমী না হওয়া। 

৪. সিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করা (আবু দাউদ ২৩৬৭)
সিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করা ইসলামে একটি অসংযমী কাজ। রোজা অবস্থায় তা করলে রোজা ভেঙে যাবে। আল্লাহ চান- বান্দা নিজের শরীর নিজের মনে না করুক। এই শরীরের প্রকৃত মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই ধ্যানজ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য রোজার মাধ্যমে এই শরীর আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত করার আহ্বান জানানো হয়।
 
৫. ইচ্ছাকৃত বমি (তিরমিজি ৭২০)
ইচ্ছাকৃত বমি ইসলামে একটি অসংযমী কাজ। রোজা অবস্থায় তা করলে রোজা ভেঙে যাবে। আল্লাহর নির্দেশ শরীরের অপারগতারও উর্ধ্বে। আল্লাহর নির্দেশের সামনে কোনো রকম ওজর-আপত্তি গ্রহণ যোগ্য নয়। তাই রোজার মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়- নিজের অপারগতা হতে আল্লাহর নির্দেশকে অধিক গুরুত্ব দিতে।
 
৬. হায়েজ ও নেফাস (বুখারি ৩০৪)
স্ত্রীর মাসিক চক্র ইসলামে একটি অপবিত্র সময়কাল হিসেবে গণ্য। রোজা অবস্থায় তা হলে রোজা ভেঙে যাবে। ইসলামে সবার ইবাদত গ্রহণ যোগ্য হয় না বরং যোগ্য ব্যক্তিদেরই ইসলাম ইবাদত করার আহ্বান জানায়। তাই রোজার মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়- ইসলামী আদর্শ ধারণ করে ইবাদত কর। সুতরাং ইসলামে সুদ, ঘুস, অনৈতিক চাঁদা, আত্মসাৎ, চুরি, ডাকাতি, জুলুম স্ত্রীর মাসিক চক্র হতেও অপবিত্র ও অসংযমী সময়কাল। রোজা অবস্থায় তা হলে রোজা থাকে না। 

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ভাবে রোজা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন