শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত

প্রকাশিত - ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ১০:২৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা  অনলাইন : ইফতার রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একটি পুণ্যময় ইবাদত। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা ইফতার করেন। ইফতারে সাধারণত নানান পদের খাবার ব্যবস্থাই রাখা হয়। তবে ইসলামে খেজুর দিয়ে ইফতার করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসে খেজুর দিয়ে ইফতার করার  নির্দেশ রয়েছে। হজরত সালমান ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত ১৮৯৩)

আরেকটি হাদিসে রয়েছে, আনাস বিন মালেক (রা.) রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি ৬৩২)

এছাড়া ইফতারে খেজুর খাওয়ার পেছনে এর পুষ্টিগুণকেও কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। খেজুরের পুষ্টিগুণের কারণে এ ফলটি অনেক জনপ্রিয়। এটি স্বাস্থ্যসম্মত ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। 
 
খেজুরের পুষ্টিগুণ

খেজুর অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। রোজা রেখে খেজুর খাওয়া খুবই উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, তামা ও সেলেনিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় উপাদান। সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দ্রুত শক্তি জোগায়

খেজুর আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি প্রদান করে এবং খুব সহজেই হজম হয়। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ থাকে। এসব উপাদান শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

হজমে সহায়তা করে

ইফতারের সময় খেজুর খাওয়া খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং সারা দিন উপবাসের পরে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলাও আটকায়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকার কারণে অল্পেতেই পেট ভরা লাগে। তাছাড়া খেজুর আমাদের শরীরে উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। যার ফলে হজম ভালো হয়।

অ্যাসিডিটি কমায়

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। খেজুর শরীরের অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

শরীরকে সতেজ রাখে

রোজা রাখলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। খেজুর শারীরিক ক্লান্তি দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে শর্করা যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ রয়েছে। এতে সুগারের পরিমাণ এতটাই বেশি, যে এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি করে খেজুরের এই সব গুণ। এ ছাড়া খেজুরে থাকা ডায়েটারি ফাইবারও আমাদের শরীরে দীর্ঘ সময় এনার্জি বজায় রাখে।

ধর্মীয় গুরুত্ব ও পুষ্টিগুণ—দুই দিক থেকেই খেজুর ইফতারের জন্য আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত। তাই ইসলামের সুন্নত অনুসরণ করে খেজুর দিয়ে ইফতার করা যেমন বরকতময়, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

 

 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন