সকল প্রশংসা আল্লাহর। যিনি আমাদের মাঝে রমজান উপহার দিয়ে নিজেদের সকল আশা, আকাঙ্ক্ষা, আবদার, দোয়া ও স্বপ্ন পূরণ করার তৌফিক দান করেছেন। আমারা তো ঠিকঠাক রোজা রাখছি, কিন্তু সবাই কি রোজার মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থনা কবুল করাতে পারছি? আমরা রোজার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন, জীবনের বিভিন্ন আশা, আকাঙ্ক্ষা, আবদার কতটুকু পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে পারছি? আসুন জেনে নেয়া যাক এ বিষয়ে আল্লাহ ও রাসূল স. আমাদেরকে কি কি নির্দেশনা দিয়েছেন।
১. রোজাদার বিশেষ ব্যক্তি: এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার কাছে এতটাই ভালোবাসার পাত্র যে, সে কিছু চাইলে আল্লাহ তায়ালা তা ফিরিয়ে দেন না। কেয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য রোজা সুপারিশ করবে। হাদিসে আরও এসেছে, কেয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন মাজিদ বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, ওগো রব! দিনে আমি তাকে পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে নিবৃত্ত রেখেছি। তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কোরআন বলবে, রাতে আমি তাকে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। -মুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬
২. রোজাদারের দোয়া কবুল হবেই: এ বিষয়ে রাসূল সা. বলেন- ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৫২
৩. রোজাদারের জন্য রয়েছে বিশেষ তিনটি মুহূর্ত:
রোজাদারের জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সময় হল শেষ রাত, এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘তাদের জন্য কল্যাণ যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দানশীল এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী।’ -সুরা আলে ইমরান : ১৭
রোজাদারের জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ফজরের পর, এ বিষয়ে রাসূল সা. বলেন- ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, তারপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহর জিকির করে; এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি হজ ও একটি ওমরার সাওয়াব রয়েছে।’ -সুনানে তিরমিজি : ৫৮৬
রোজাদারের জন্য তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময় হল ইফতারের সময়, এ বিষয়ে রসুল সা. বলেন- ‘নিশ্চয়ই রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় এমন একটি দোয়া থাকে যা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, ২য় খণ্ড, হাদিস- ২৯)।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রমজানে যথাযথ রোজা আদায়ের মাধ্যমে আশা, আকাঙ্ক্ষা, আবদার, দোয়া ও স্বপ্ন পূরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
