শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

নাজাতের ১০ দিনের তাৎপর্য ও করণীয়

প্রকাশিত - ১০ মার্চ, ২০২৬   ০১:১৪ পিএম
webnews24

রমজানের শেষ ১০ দিনকে ‘নাজাত’ বা জীবনের সকল জটিলতা, ভুলভ্রান্তি ও অপরাধ মূলক জীবন যাপন থেকে মুক্তির দশক বলা হয়। এই সময়টি ইবাদতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মধ্যেই রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’ বা ভাগ্য রজনী, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। 

নাজাতের ১০ দিনের তাৎপর্য:
১. জাহান্নাম থেকে মুক্তি: এই দশকটি আল্লাহর রহমতে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য বিশেষায়িত।
২. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান: এই ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) হাজার মাসের        চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত—লাইলাতুল কদর খোঁজা হয়।
৩. নবীজী (সা.)-এর বিশেষ ইবাদত: রাসূলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে ইবাদতের জন্য শক্তভাবে নামতেন এবং             রাত  জেগে ইবাদত করতেন।
৪. আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা: গুনাহ মাফ এবং আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য এটি শ্রেষ্ঠ সময়। 

নাজাতের ১০ দিনে করণীয়:
১. ইতিকাফ করা: শেষ ১০ দিন মসজিদে বা নারীরা ঘরে নির্জনবাস করে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
২. লাইলাতুল কদর খোঁজা: বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে ইবাদত করা।
৩. বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার পড়া: রাসূলুল্লাহ সা. এই সময়ে বেশি বেশি এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন:
     উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নী।
      অর্থ: "হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন"।
৪. কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির করা: কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা, তাসবীহ ও জিকিরে মশগুল থাকা।
৫. তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ পড়া: রাতের শেষভাগে উঠে তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ নফল নামাজ আদায় করা।
৬. সদকা বা দান-খয়রাত করা: এই সময়ে দান-সদকা করা, বিশেষ করে যাকাত ও ফিতরা আদায় করা।
৭. দুনিয়াদারী ব্যবস্থা বর্জন করা: ঈদের কেনাকাটা বা প্রস্তুতি, পরে করলেও চলবে এমন কাজ বা অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদতে মনোনিবেশ করা। 

সংক্ষেপে, এই ১০ দিন দুনিয়ার সব মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত করে পুরোপুরি আল্লাহর প্রেমে ও ইবাদতে বিভোর থাকার সময়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নাজাতের ১০ দিন যথাযথ ইবাদতের মধ্যে দিয়ে কাটানোর তৌফিক দান করুন। আমিন। 
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন