যাকাত হলো ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি অর্থনৈতিক ইবাদত, যার মাধ্যমে সম্পদশালী মুসলমানরা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ অর্থাৎ শতকরা ২.৫% প্রতি হিজরি বছর শেষে গরীব ও অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করেন।সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য, নগদ টাকা বা গবাদি পশুর ওপর যাকাত ফরজ হয়, যদি তা নিসাব পরিমাণ বা তার বেশি হয়।
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ:
১. নিসাব পরিমাণ সম্পদ: কারো মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ- সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা সমমূল্যের অর্থ/ব্যবসায়িক পণ্য সম্পদ থাকতে হবে।
২. এক বছর পূর্ণ হওয়া: উক্ত সম্পদ পূর্ণ এক হিজরি বছর ধরে মালিকানায় থাকতে হবে।
নিসাব ও যাকাতের হার:
১. রূপার হিসাব: বর্তমানে রূপার দাম অনুযায়ী প্রায় ৫২৫ গ্রাম বা সাড়ে ৫২ তোলা/ভরি রূপার মূল্যকে নিসাব ধরা হয়, যা অনেকের জন্য হিসাব করা সুবিধাজনক।
২. সোনা-রূপার হার: নিসাব পরিমাণ সম্পদের মোট মূল্যের ৪০ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ- ২.৫০% যাকাত দিতে হবে।
৩. যাকাতযোগ্য সম্পদ: নগদ টাকা, ব্যাংকে জমানো অর্থ, সোনা-রূপার অলংকার, ব্যবসার মালামাল।
দ্রষ্টব্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ যেমন: বসবাসের বাড়ি, সাধারণ পোশাক, ব্যবহারের গাড়ি যাকাতের আওতায় পড়ে না।
