শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বকাপের বলে চার্জ ও চিপ বসানো

প্রকাশিত - ২৬ মে, ২০২৬   ১২:৫৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’ তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। তিন আয়োজক দেশকে সম্মান জানিয়ে তৈরি এই ৪-প্যানেলের বলে রয়েছে ডিপ-সিম প্রযুক্তি ও ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর। ভিএআর সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করতে এই বলেরও ভূমিকা থাকবে। দ্রুত সিদ্ধান্তে সহায়তার পাশাপাশি বাতাসে বলের স্থিতিশীলতাও বাড়াবে ‘ট্রাইওন্ডা’। ফিফা ও অ্যাডিডাসের দাবি, দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পরই এই প্রযুক্তি আনা হয়েছে।

বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে। সেই কারণেই নতুন বলের নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। নামের অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। যা তিন দেশের যৌথ আয়োজনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। বলটির ডিজাইনেও এই তিন দেশের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি আলাদা রং - নীল, লাল এবং সবুজ। এগুলো যথাক্রমে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর প্রতীক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

এই প্রথমবার ব্যবহার হতে চলেছে এমন বল, যা খেলার সঙ্গে উন্নত ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসাবেও কাজ করবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলের ভেতরের প্রযুক্তিতে। এতে একটি অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বল কখন, কোথায়, কী গতিতে যাচ্ছে বা কোন খেলোয়াড় সেটিকে স্পর্শ করছে, সব তথ্যই সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন হল, চিপ কিংবা সেন্সর বসানোয় কি বলের ওজনে পরিবর্তন আসবে? উত্তর হল, ‘না’। সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। আগেও ফুটবলে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তবে এবার তাকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এমনভাবে সেন্সরটি বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, গতি বা বাউন্সে কোনও পরিবর্তন না আসে। অর্থাৎ ফুটবলাররা বল ব্যবহার করার সময় আলাদা কোনও পার্থক্য অনুভব করবেন না।

নতুন এই বলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পাওয়ার সিস্টেম। বলের ভেতরের সেন্সর চালু রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে এটিকে চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ হলে তা থাকবে ছ’ঘণ্টা পর্যন্ত। যা ম্যাচের আগের প্রস্তুতির সময়-সহ একটি গোটা ম্যাচ অনায়াসে খেলা যায়। ফুটবল ৯০ মিনিটের খেলা। অতিরিক্ত সময় বা পেনাল্টি শুট আউটে ম্যাচ গড়ালেও কোনও অসুবিধা হবে না।

অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামকে যেভাবে পরীক্ষা ও প্রস্তুত করা হয়, ট্রাইওন্ডা বলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। এ কারণে ম্যাচ পরিচালকদের দায়িত্বও কিছুটা বাড়বে। তাদের শুধু বল ঠিক আছে কি না তা নয়, বরং সেটি যথাযথভাবে চার্জ করা হয়েছে কি না, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যাবে না যে বলের ভেতরে এমন কোনও প্রযুক্তি রয়েছে।

এই প্রযুক্তি ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের ক্যামেরা এবং বলের ভেতরের সেন্সর একসঙ্গে কাজ করে প্রতিটি ঘটনার সঠিক বিশ্লেষণ দিতে পারবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন বিশ্বকাপ আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে চলেছে। ‘ট্রাইওন্ডা’ শুধু একটি বল নয়, বরং এটি হবে খেলার প্রতিটি মুহূর্তকে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার একটি স্মার্ট প্রযুক্তি।

প্রথমবার ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্বকাপ। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর মোট ১৬টি শহরে আয়োজিত হবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। আয়তন, প্রযুক্তি এবং আয়োজনের দিক থেকে এই বিশ্বকাপকে ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম আসর হিসাবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর ১৮ দিন আগে চর্চায় ‘ট্রাইওন্ডা’।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)