শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

লাল গাড়ির চেয়েও বড় গল্পটি এক মায়ের

প্রকাশিত - ১৫ জুন, ২০২৬   ১২:৫৫ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ছোটবেলায় ছেলের স্বপ্ন পূরণে শেষ সম্বল জমি বন্ধক রেখেছিলেন মা। বছরের পর বছর সেই ত্যাগ, সংগ্রাম আর ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ছেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করার পরও যার পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মা। সেই ছেলেটির নাম তাওহিদ হৃদয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার’ নির্বাচিত হন হৃদয়। পুরস্কার হিসেবে পান চেরি ব্র্যান্ডের একটি লাল রঙের গাড়ি। তবে গাড়ি পাওয়ার আনন্দের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে সেটি নিয়ে হৃদয়ের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট।

গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “মা, তোমার জন্য একটা গাড়ি কেনার নিয়ত করেছিলাম, তার কয়েক দিনের মধ্যেই পেয়ে গেলাম! অদ্ভুত না?”

একটি মাত্র বাক্যেই যেন ফুটে ওঠে মা-ছেলের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একসময় ঢাকায় একটি একাডেমিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। ছেলের স্বপ্নের মূল্য বুঝতে পেরে হৃদয়ের মা গোপনে জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন। সেই অর্থ নিয়েই ঢাকায় আসেন হৃদয়।

তবে শুরুটা সুখকর ছিল না। যে একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখানে প্রতারণার শিকার হন তিনি। হতাশ হয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু মায়ের ত্যাগ আর বিশ্বাস তাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেয়। সেই সাহসই একদিন তাকে জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্নপূরণে পৌঁছে দেয়।

হৃদয়ের জীবনে মায়ের গুরুত্ব কতটা, তা বহুবারই প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির মাঝেও অসুস্থ মায়ের পাশে থাকার জন্য ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে হাসপাতালে সময় কাটানোর ঘটনাও রয়েছে। সমালোচনা হয়েছে, নানা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু মায়ের প্রতি দায়িত্ব থেকে একচুলও সরে আসেননি তিনি।

কয়েক বছর আগে মাকে উদ্দেশ করে লেখা এক খোলা চিঠিতে হৃদয় তার অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, জন্মদিনের দিনই প্রথম জানতে পারেন তার মায়ের ক্যান্সারের কথা। সেই মুহূর্তে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে তার কাছে বেশি মূল্যবান একজন মানুষ—তার মা।

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছিলেন, মায়ের কষ্টের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, অশ্রু লুকিয়েছেন, ভয়কে জয় করার চেষ্টা করেছেন। আর মায়ের জীবনসংগ্রাম থেকেই শিখেছেন ত্যাগ, সততা, পরিশ্রম এবং ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ।

হৃদয়ের ভাষায়, “তুমি আমার সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরকালে মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত হলেও, এ দুনিয়ায় তোমার হাসিতে আমি বেহেশত দেখেছি।”

ক্রিকেট মাঠে শত অর্জনের মাঝেও তাই তাওহিদ হৃদয়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনো ট্রফি কিংবা পুরস্কার নয়; বরং মায়ের মুখের সেই এক চিলতে হাসি।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)