২৪ঘণ্টা অনলাইন: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়েছে। শেষ চারে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের আগে প্রস্তুতি ও শারীরিক অবস্থার বিচারে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারাতে অতিরিক্ত সময় খেলতে হলেও সেটিই ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ, যা ৯০ মিনিটের বেশি গড়িয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়তে হয়েছে।
ফলে টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের তুলনায় বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। এতে লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ পড়েছে।
এ ছাড়া বিশ্রামের ক্ষেত্রেও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার আগে মাঠে নামায় সেমিফাইনালের আগে কয়েক ঘণ্টা বেশি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন হ্যারি কেইনরা। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে সামান্য অতিরিক্ত বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরবর্তী ম্যাচের আগে হাতে চার দিনেরও কম সময় থাকায় আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন খেলোয়াড়দের পূর্ণ ফিটনেস নিশ্চিত করা। সেমিফাইনালের মতো উচ্চচাপের ম্যাচে সতেজ দল নিয়ে নামতে চান তিনি।
তবে ক্লান্তি ও বিশ্রামের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও ভ্রমণের হিসাবে আর্জেন্টিনা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পথ ভ্রমণ করেছে ইংল্যান্ড। বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলতে গিয়ে দলটি আকাশপথে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার যাত্রা করেছে।
সব মিলিয়ে সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। ক্লান্তি, বিশ্রাম, ভ্রমণ এবং মানসিক দৃঢ়তাও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর প্রতিপক্ষ যখন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ এই ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
