২৬ আগস্ট বিয়ে। সালটি ছিল ১৯৮৩। দেখতে দেখতে বিয়ের বয়স ৪৩ বছরে পরলো। শ্যামলীর বাসায় মার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি। বিকেলে বিয়ে। এমন সময় আর্মির ডিআর (ডেসপ্যাচ রাইডার) মোটর সাইকেলে এসে জানালো ডিএমটি ব্রিগেডিয়ার (মেজর জেনারেল) মতিন যেতে বলেছেন। ছুটলাম। ৪৬ ব্রিগেডের মেসে আমার রুমে দেখি কর্নেল ফেরদৌস স্যার, কর্নেল রিয়াজ বসে আছেন।
জানানো হলো বিকেলে সেমিফাইনাল খেলতে হবে রেলওয়ে হকি টিমের সাথে। আমার মেসের কাছেই বনানী ডিওএইচএস। রিনার বাসা। গেলাম। বিকেলে খেলে এসেই বিয়েতে বসবো। রিনা আমার বাম হাতে দুটো রাখি বেঁধে দিলো। দুটো রাখি বাম হাতের প্রায় কনুই পর্যন্ত গেলো। রিনা বলল রাখি খুললে খবর আছে। রুমে ফিরত এসে কর্নেল ফেরদৌস স্যারকে হাত দেখানোর পর বলালম কি করবো স্যার, এ রাখি খুল্লে রিনা মাইন্ড করবে। রিয়াজ বললো রাখির উপর দুইটা রিষ্ট ব্যান্ড পরিয়ে দিলে রাখি দেখা যাবে না।
রেলওয়ে ফার্স্ট হাফে তিন গোল খাবার পর হাফ টাইমের পর আর নামলোনা। রেলওয়ে দলে জাতীয় দলের ব্যাক সেলিম খেলে। তারে বললাম, আজ আমার বিয়ে, যদি নাইই খেলবি তাইলে এই মাঠে আসার তামশা কেন করলি। বলল, আমরা মনে করছি তোর বিয়ে তাই তুই খেলবি না। এলিফ্যান্ট রোডে আবাহনী ও জাতীয় দলের ফুট তারকা হেলালের চাইনিজ। বলল শাহাব উদ্দিনের জন্য কোনো বিল নাই। এরই রকম ঘটনা হয়ে ছিলো হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে (শেরাটনে) সিল্ক কর্নার হলো, হকির জাতীয় দলের গোল রক্ষক মাজেদের। ওদের বাড়ি বেনারস। রিনাকে নিয়ে শেরাটনে যেতে বলল। রিনাকে নিয়ে গেলাম। বলল, ভাবি শাড়ি চয়েজ করেন। বিয়ের বেনারসি থেকে সব বাছুন। প্রায় দশ/বারোটা শাড়ি পছন্দ করে রিনা নিয়ে আসলো। কত হয়েছে? মাজেদ বললো ভাবির সামনে ছোট করিস না।
রিনারে নিয়ে শ্যামলির বাসাতে আছি। দেখি কর্নেল ফেরদৌস স্যার আর রিয়াজ ব্রেক ফাস্ট পাঠিয়েছে। সমানে সাত দিন ব্রেকফাস্ট পাঠিয়ে ছিলো। দুপুরে আনন্দ বেকারির মালিক ইউসুফ (হকির গোলকিপার) ল্যাম্ব রোস্টসহ ওদের সিগনেচার কেক পাঠাচ্ছে। মা বললো, এবার তোর বন্ধুদের থামতে বল। কর্নেল ফেরদৌস স্যার বললো আরো সাত দিন চলুক। আমার মতন এমন দিল দরাজ বন্ধু আর কারো আছে বলে বিশ্বাস করি না।
চলবে...
