আমার মা বেগম সালেহা চাকলাদার নিয়মিত সওগাত, বেগম পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। নওরোজ কিতাবিস্থানের মালিক নাছির আলি কাকা ওই সময় মুসলিম লেখক/লেখিকাদের পত্র/পত্রিকাতে লেখার জন্য উৎসাহিত করতেন। বাবারও উপন্যাস রয়েছে।
বাবা শামসুদ্দিন চাকলাদার ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। তবে এখানে একটা টুইস্ট আছে। বাবা ইউনিভার্সিটি থেকেই দেরাদুন মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসাবে চলে গিয়েছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে থাকতে ইউওটিসির সদস্য থাকাতে আর্মিতে যোগদান করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। দাদী মা ছিলেন ভীষণ কড়া। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক সাহেবের কাছে গিয়ে তার অনুমতি বাদে ছেলে মিলিটারি একাডেমিতে গিয়েছে এবং উইথড্র করিয়ে নিয়ে আসেন। বাবা মুসলিম হলের ছাত্র ছিলেন। ফিরে আসার পর বাবার আর পড়তে মন চায়না। দাদীমা আবার এ কে ফজলুল হক সাহেবের কাছে গেলেন এবং সাব-রেজিস্ট্রার চাকরি ছেলের জন্য করিয়ে আসলেন। এজলাসে বসে চাকরি— বাবার মন-মতন হলোনা।
বাবা ছিলেন ইউনিভার্সিটির ফুটবল ও হকি ক্যাপ্টেন। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হকি ও ফুটবল ক্যাপ্টেন।ওয়ারি ক্লাব ক্রিকেট দলের উইকেটকিপার এবং ওপেনার।
সাব-রেজিস্ট্রার হবার পর ঢাকা ছাড়তে হলো। তবে যেখানেই পোস্টিং সেখানেই ফুটবল টিম গড়েছেন। আজকের যিনি সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ বীরবিক্রম। তিনিও ভোলাতে বাবার টিমে খেলেছেন। আমার সেনাবাহিনীতে যাবার মুল কারিগর মেজর হাফিজ উদ্দিন বিবি। তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে আমার জন্য নিউ মার্কেট থেকে ‘ডগার্স ব্রাদার্সের’ বই কিনে এনে ক্লাবেই আমারে ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের প্রস্তুতি করাতেন।
আমার বড় ভাই সালেহ উদ্দিন চাকলাদার স্পোর্টস ইউনিভার্স নামে ইংরেজি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে ছিলেন। ছোট ভাই সাইদ উদ্দিন ওই ম্যাগাজিনের সাথেই জড়িত ছিলো। আজ বড় ভাই আর ছোট ভাই দুইজনই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই বেহেশত নসিব করবেন। মেজো ভাই শফি চাকলাদার ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলামের সার্বিক দায়িত্বে। তিনি অন্যতম নজরুল গবেষক হিসাবে স্বীকৃত। নজরল বিষয়ক তার বহু বই রয়েছে। সেজো ভাই বিচারপতি শরিফ উদ্দিন চাকলাদার এই মুহূর্তে চেয়ারম্যান ফার্স্ট কোর্ট অফ সেটেলমেন্ট হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আর আমি মেজর অবসরপ্রাপ্ত। আমার মা রত্ন গর্ভা বলাই যায়। পারিবারিক ইন্ট্রোডাকশন দিয়েই আজকের লেখার ইতি টানছি।
—চলবে
