শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে অনিদ্রা ও অপর্যাপ্ত ঘুমের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের পরবর্তী পাঁচ বছরে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ বেশি হতে পারে। তবে ঘুমের অভাব সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

অপর্যাপ্ত ঘুম বাড়াতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

প্রকাশিত - ০৭ নভেম্বর, ২০২৬   ০১:১৬ পিএম
webnews24
ছবি : সংগৃহীত

২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : রাত জেগে থাকা, অনিয়মিত ঘুম কিংবা দীর্ঘদিনের অনিদ্রাকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করেন। কিন্তু ঘুমের এই অনিয়মের সঙ্গে কম বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘুমের সমস্যায় ভোগা তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ক্যানসার সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় অনিদ্রা, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং ঘুমের অনিয়মিত সময়সূচির সঙ্গে অল্প বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তিন দশকে তরুণদের ক্যানসার বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ

গবেষণায় উঠে আসা আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ছিল প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ লাখ ৬০ হাজারে। অর্থাৎ তিন দশকে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই নয়, ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হারও বেড়েছে। একই সময়ে ৪০ বছর বা তার কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর হার বেড়েছে ২৭ শতাংশ। কেন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের বিস্তার বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

অনিদ্রায় পাঁচ বছরে ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ?

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, ৫০ বছরের কম বয়সী অনিদ্রায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পাঁচ বছরে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়মের সঙ্গেও ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই সম্পর্কের পেছনে ঠিক কোন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

ঘুমের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক কতটা নিশ্চিত?

গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও বিজ্ঞানীরা একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ঘুমের সমস্যা থাকলেই কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

গবেষণায় ঘুমের সমস্যা ও ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিন্তু অপর্যাপ্ত ঘুমই সরাসরি ক্যানসারের কারণ—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের ঝুঁকির পেছনে বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, পরিবেশসহ একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ঘুমের সমস্যাকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কেন জরুরি?

ক্যানসারের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চললেও সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের গুরুত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রাকে অবহেলা না করা জরুরি।

বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা ও অনিয়মিত জীবনযাপনের প্রবণতা বাড়ায় ঘুমের প্রতি সচেতনতা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ঘুমের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘুমের অনিয়ম ও ক্যানসারের সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত গবেষণা।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
সুগারের মাত্রার গত তিন মাসের গড় অর্থাৎ এইচবিএ১সি রক্তপরীক্ষা করানো হয়। সে ক্ষেত্রে ৫.৭ শতাংশ স্বাভাবিক, ৫.৭-৬.৪ শতাংশ প্রি-ডায়াবিটিস এবং ৬.৫ শতাংশে পৌঁছে গেলে তা ডায়াবিটিস।
পোশাক যতই নজরকাড়া হোক, ত্বক যদি রুক্ষ হয়, তা হলে সাজগোজই মাটি। বিশেষত দীপাবলি বা কালীপুজোয় হল্টারনেক বা কাঁধখোলা ব্লাউজ় পরলে, ত্বকের জেল্লা থাকাও জরুরি। কিন্তু এখন থেকেই বাতাসে আর্দ্রতা কমছে। কিছুক্ষণ এসি ঘরে থাকলেই ত্বকে টান ধরছে।
প্রতিদিন পরিমিত কলা খাওয়া হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আঁশ ও ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া এবং কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম গ্রহণে সতর্ক থাকা জরুরি।
স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মধু রাখতে পছন্দ করেন। তবে বাজারে মধু কেনার সময় এর বিশুদ্ধতা, গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
জ্বর হলেই গলা ব্যথা, গায়ে ব্যথা দোসর হয়। এমন সময়ে গরম খাবারে স্বস্তি মেলে। তবে ঘন ঘন চা-কফি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এই সময়ে এমন খাবার বেছে নিন যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।