২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরদিনই মাঠে নামছে দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। বুধবার সকালে মাঠে নামছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। এ যেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী দলের মধ্যে ফাইনাল খেলার আমেজ। সকাল ৬টায় মাঠে গড়াবে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা। তবে সেটা মানতে নারাজ সেলেকাওরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেসি-নেইমারবিহীন দুই দল। তবে দুই দলই ম্যাচ নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। এদিকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সময়টাও দারুণ কাটছে। এ মার্চের সূচিতেই যেমন মেসি-মার্তিনেজদের ছাড়াও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে তারা। গত শনিবার উরুগুয়ের মাঠে ১-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে লিওনেল স্কালোনির শীষ্যরা। এদিকে গত শুক্রবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে জিতে পয়েন্ট টেবিলে একটু উন্নতি করেছে দরিভাল জুনিয়রের দল।
কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ব্রাজিল গত কোপা আমেরিকায় নকআউট পর্বের প্রথম ধাপেই হেরে যায়। দলটির সেই হতাশাময় পথচলা চলছে এখনো। দুই দলের শেষবারের মুখোমুখিতে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। এবারের বাছাইপর্বের প্রথম দেখায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলকে তাদের মাঠেই ১-০ গোলে হারিয়েছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফিরতি লেগে মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় চিরপ্রতিদ্বন্ধী দুই দল। ২০০২ সালের পর ব্রাজিল যখনই বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছে তখনই তাদের মিশনের নাম হয়েছে ‘হেক্সা মিশন’। মানে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের যাত্রা। যদিও সেই মিশনটা আজ পর্যন্ত পূর্ণ হয়নি তাদের। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালটাই সেলেকাওদের জন্য আজও অস্পর্শ। সর্বোচ্চ একবার সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে। শেষ চারে যেখানে জার্মানির কাছে হলুদ শিবিরকে হজম করতে হয়েছিল সাত গোল। তার পরও পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ে ব্রাজিল সবার চেয়ে এগিয়ে।
এমন কৃতিত্ব নেই আর কারও। চারটি করে জিতে এই তালিকায় ব্রাজিলের পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছে জার্মানি ও ইতালি। তিনবার জিতে তৃতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। পাঁচ বিশ্বকাপ জয়ের মতো একটি রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের, যা এখন পর্যন্ত কেউ ছুঁতে পারেনি। আর তা হলো বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। ব্রাজিল এই রেকর্ডটি গড়েছিল ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে। ব্রাজিলের এই অবিশ্বাস্য জয়ের ধারা শুরু হয়েছিল ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে এবং শেষ হয়েছিল ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে। এই দুই আসরে তাদের দলে ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস, রোনালদিনহো, রিভালদো ও রোনালদোর মতো তারকা ফুটবলাররা। লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে একাদশে ৬ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল! ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগেই ব্রাজিলের একাদশ জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবো। ব্রাজিলিয়ান এই সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রথম একাদশে ৬টি পরিবর্তন এনেছেন দরিভাল জুনিয়র। গত শুক্রবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে খেলেছিল দেশটি, সেখান থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনা ম্যাচে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের গোলপোস্ট সামলেছিলেন আলিসন বেকার। কিন্তু মাথায় চোট পেয়ে স্কোয়াড থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। বদলি হিসেবে স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে গোলকিপার ওয়েভরতনকে। আলিসন ছাড়াও চোটের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না গারসন। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও ব্রুনো গিমারেস কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞায় পড়েন গ্যাব্রিয়েল ও ব্রুনো। বদলি হিসেবে ডিফেন্ডার বেরালদো, মিডফিল্ডার হোয়াও গোমেজ ও এদেরসনকে ডাকেন দরিভাল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে আলিসন, মাগালাইস, গিমারেস ও গারসনের জায়গায় বেন্তো, মুরিল্লো, আন্দ্রে ও জোয়েলিসতনকে খেলাবেন ব্রাজিল কোচ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও আলিসনের জায়গায় গোলপোস্ট সামলেছিলেন বেন্তো। এই চারজন ছাড়াও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামা ওয়েসলি ফ্রাঙ্কা ও ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার সাভিনিওকে একাদশে খেলাবেন দরিভাল। ভ্যান্ডারসন ও রদ্রিগোর জায়গায় বদলি হিসেবে তারা কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। এতকিছুর পরও ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি দারুণ চ্যালেঞ্জের হতে যাচ্ছে।
২৪ঘণ্টা/আসো
