২৪ঘণ্টা অনলাইন : আক্ষেপ আর হতাশাকে সঙ্গী করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ। বাছাইয়ের আসরে খেলতে নামার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয় দিয়ে দারুণ কিছু করার আভাসও পাওয়া গিয়েছিল। তাছাড়া দেশ ছাড়ার আগে কোচ সারোয়ার ইমরানও ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করে জয় দিয়ে বিশ্বকাপে খেলার কথা গিয়েছিল। থাইল্যান্ডকে ১৭৮ রানে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ শুরু করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শুরুেতে ব্যাট করতে নেমে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করেও পরে ২৭১ রানের বড় স্কোর গড়ে লাল সবুজের দল। নিগার সুলতানা জ্যোতির প্রথম সেঞ্চুরিটা দারুণ এক জয় দিয়ে উৎযাপন করার উপলক্ষ্য এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ২৭২ রানের বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে থাইল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল গুটিয়ে গেছে মাত্র ৯৩ রানেই। প্রায় দুইশত রানের বড় জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। ওয়ানডেতে টাইগ্রেস মেয়েদের বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটাও হয়েছে বৃহস্পতিবার। এর আগে আইরিশ মেয়েদের বিপক্ষে ১৫৪ রান ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিছুটা সাবধানী শুরু করেছিল থাই মেয়েরা। অনেকটা দেখেশুনে খেলে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৮ রান। কিন্তু এরপরই আর সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে মাত্র ২৮.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় থাইল্যান্ডের মেয়েরা। চুনুডা সুটিরাং ২২, নাটায়া বোকাথাম ১৭ ও অধিনায়ক নারুয়েল চিওয়াই ১৫ রান করে। বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউই দু’অংকের কোটা পার হতে পারেনি। মূলত জান্নাতুল ফেরদৌস ও ফাহিমা খাতুনের বোলিং তোপে পড়ে শতরানও করা হয়নি প্রতিপক্ষের। জান্নাতুল ৭ রানে ও ফাহিমা ২১ রানে ৫ উইকেট নেন। এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ব্যাটারাদের ব্যাটে রান। সেঞ্চুরির অপেক্ষা ঘুচল জ্যোতির, আর বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ করে। কোচ সারোয়ার ইমরান দেশ ছাড়ার আগেই জানিয়েছিলেন, ২৫০ রানের বেশি করার সামর্থ্য দলের আছে।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তা করে দেখাল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দলটা তুলে ফেলেছে ২৭১ রান, তাও মোটে ৩ উইকেট খুইয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে এতে বড় অবদান রেখেছেন অধিনায়ক জ্যোতি। ৮০ বলে তিনি করেছেন ১০১ রান। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও মাইলফলক ছুঁতে পারেননি শারমিন আক্তার। তবে অপরাজিত ৯৪ রান করে দলকে বিশাল পুঁজি পেতে সাহায্য করেছেন তিনি। লাহোরের সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ইশমা তানজিম বিদায় নেন দুই অঙ্কে পা রাখার আগেই। তবে ফারজানা হকের সঙ্গে শারমিনের ১০৪ রানের জুটি সে ধাক্কাটা সামাল দেয়। ৮২ বলে ৫৩ রান করে ফারজানা ফেরেন এরপর। বাংলাদেশ এরপর আর হোঁচট খায়নি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৮ বলে ১৫২ রান যোগ করেন নিগার আর শারমিন।
তাতেই বাংলাদেশ বিশাল পুঁজি পেয়ে যায়। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন নিগার, তার ঠিক আগেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ৭৯ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি পেয়ে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি। তাতে বাংলাদেশও পেয়ে যায় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুঁজি। এর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্কোর ছিল ২৫২ রান। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ রেকর্ড গড়েছিল দলটা। বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩ এপ্রিল আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ১৫ এপ্রিল পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। ১৭ ও ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশের শেষ দুই প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিক পাকিস্তান।
