শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

আবারও দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ খেলার আকুতি সাকিবের

প্রকাশিত - ১৮ এপ্রিল, ২০২৫   ০১:০১ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : আবারো আলোচনায় সাকিব আল হাসান, দেশের মাটিতে শেষবার খেলতে চাওয়ার কথা আবারও পূর্নব্যক্ত করেছেন। বুধবার তার এক সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয় দেশের একটি স্বনামধন্য ইংরেজি পত্রিকায়। সেখান রাজনীতিতে আসা ভুল ছিলনা বলে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিজের অবস্থানও পরিস্কার করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম সাকিব। ক্রিকেট মাঠে তার অর্জন যতটা, মাঠের বাইরে সাম্প্রতিক সময়ের বিতর্কও কম নয়। বিশেষ করে রাজনীতিতে যোগদান এবং পরবর্তী সময়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়া। দেশের একটি ইংলিশ দৈনিককে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাকিব খুব স্পষ্টভাবে জানালেন রাজনীতিতে আসার কারণ, নিজের অবস্থান এবং ভুল-শুদ্ধের মূল্যায়ন। ‘দেখুন, যদি আমার জন্য রাজনীতিতে আসা ভুল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো ডাক্তার, ব্যারিস্টার, ব্যবসায়ী বা অন্য যে কোনো পেশার মানুষ রাজনীতিতে আসলেও তা ভুল হবে। অথচ, রাজনীতি করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। ভোট দেবে মানুষ, সেটা তাদের ইচ্ছা। আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন মনে করেছিলাম এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আজও মনে করি ঠিকই করেছিলাম। কারণ, আমার উদ্দেশ্য ছিল মাগুরার মানুষের জন্য কিছু করা।’

সাকিবের বিশ্বাস, ‘মাগুরার মানুষ আমাকে চেয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি, আমার এলাকায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল। আজও যদি নির্বাচন করি, সেখানে আমার বিকল্প পাওয়া কঠিন। এই বিশ্বাস থেকেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম।’ রাজনীতি করার মূল কারণ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি সবসময় মনে করেছি, বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সিস্টেমের ভেতরে যেতে হয়। বাইরে থেকে কতটুকুই বা পরিবর্তন সম্ভব? আজ যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারাও কি বাইরে থেকে এসব করতে পারতেন? সুতরাং, যুক্তিটা তো পরিষ্কার। আমার ইচ্ছা ছিল, ধীরে ধীরে সিস্টেমের ভেতরে গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করা। ক্রিকেট খেলার সময়টা পার করে, বুঝে-শুনে রাজনীতিতে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।’ ‘আমি ছয় মাসের মতো রাজনীতিতে ছিলাম। নির্বাচনের পরে মাগুরায় গিয়েছিলাম মাত্র তিন দিন। তারপর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ক্রিকেট খেলেছি, আবার দেশের বাইরেও ছিলাম। সেখানে রাজনীতি বা এলাকার পরিস্থিতি বোঝার সুযোগই বা কোথায়?’

সাকিব জানান, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাকে রাজনীতি করতে হবে না। তুমি শুধু ক্রিকেটে মন দাও।’ আমি সেই কথাই শুনেছি। কোনো গোপন অ্যাজেন্ডা ছিল না। ক্রিকেট খেলাই আমার অগ্রাধিকার ছিল। ইচ্ছে করলেই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু সেটাই করিনি। আমার প্ল্যান ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে, ধীরে ধীরে রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করব।’ সাকিব সরাসরি জানালেন, ‘রাজনীতিতে আসা ভুল কিনা, এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা বেশিরভাগই মাগুরার ভোটার নন। মাগুরার মানুষের ভাবনা আলাদা। তারা বিশ্বাস করে আমি কিছু করতে পারব। সুতরাং, কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না।’ এদিকে দেশের জার্সিতেই শেষটা রাঙাতে চান সাকিব। তিনি বুঝে গেছেন তার জন্য শেষটা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। ‘আমি বুঝেছিলাম, আমার জন্য শেষ হয়ে গেছে তখনই, যখন দেখলাম এই পরিমাণ চাপ নিয়ে আর খেলতে পারছি না। আমার দেশের জন্য খেলতে ইচ্ছা করে না এমন নয় বরং এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা আমার মধ্যে আছে, আর সেটা চিরকাল থাকবে’।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পার্কে ঘুড়ে বেড়ানোর সেই ছবির ব্যাখ্যা দিলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাস্তায় নেমে নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল তরুণ প্রজন্ম। আর সেই সময়েই ভাইরাল হয় ক্রিকেট তারকা ও সেই সময়ের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের একটি ছবি, যেখানে দেখা যায় তিনি কানাডার এক সাফারি পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যখন দেশের তরুণরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নিজেদের জীবন দিচ্ছেন, তখন সংসদ সদস্য হয়েও সাকিব কীভাবে এমন ভ্রমণে মগ্ন থাকতে পারেন? এই বিতর্কের বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলে সাকিব  বলেন, ‘আসলে আমি বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। প্রথমে আমেরিকায় মেজর লিগ ক্রিকেট খেলেছি, তারপর কানাডায় গিয়েছি। ওই ছবিটা কানাডায় তোলা হয়েছিল। আমি নিজে সেটা পোস্ট করিনি। তবুও, একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে দায়টা আমি নিচ্ছি। এটা ছিল একটা আগে থেকে নির্ধারিত পারিবারিক ভ্রমণ। পরে ভেবে এখন বুঝতে পারছি সময়টা ভালো ছিল না। একজন সাংসদ, একজন তারকা হিসেবে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। আমি সেটা মেনে নিচ্ছি। যা আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে।’ 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)