২৪ঘণ্টা অনলাইন : ব্যর্থতার বৃত্তে হাবুডুব খেতে থাকা বাংলাদেশ দল উড়িয়ে এনেছিল জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু জয়ের ধারায় ফেরার যে প্রত্য্শাা ছিল সেটা পূরণ হয়নি। উল্টো ৭ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট হেরে বসল নাজমুল হেজাসেন শান্তর দল। এর আগে টেস্টে কখনোই ১৬২ রানের বেশি তাড়া করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তাই সিলেট টেস্টে জিততে হলে সফরকারীদের রেকর্ড গড়তে হতো। সেটাই করল রোডেশিয়ানরা। বাংলাদেশকে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। তাতে ৪ বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে জয়ের স্বাদ পেল তারা। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ বছর পর টেস্ট জিতল জিম্বাবুয়ে। এর আগে জবাব দিতে নেই দেড়শর আগে ৬ উইকেট তুলে লড়াইয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ দল। চার বিরতিতে যাওয়ার আগেও ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল জিম্বাবুয়ের দখলে। তবে বিরতি থেকে ফিরে দ্রুত চার উইকেট তুলে নেয় স্বাগতিকরা। তাতে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরেছিল স্বাগতিকরা। ১৭৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় জিম্বাবুয়ে।
দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারান রীতিমতো ঝড় তোলেন! বিশেষ করে বেনেট শুরু থেকেই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। প্রথম ইনিংসেও নতুন বলে কাউন্টার অ্যাটাককে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। এবারও হাঁটলেন একই পথে। তাতে এবারও সফল। বেনেটের থেকে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও বাংলাদেশি বোলারদের খেলতে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয়নি আরেক ওপেনার কারানের। দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফিরেছেন ফিফটি না পাওয়ার আফসোস সঙ্গী করে! ইনিংসের ২১তম ওভারে কারানকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। ডানহাতি এই অফ স্পিনারের ফুল লেংথের বল লং অনের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন কারান। ৭৫ বলে ৪৪ রান করেছেন এই ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৯৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। মিরাজের পর ব্রেক থ্রুু দিয়েছেন আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
২৬তম ওভারের শেষ বলটি মিড স্টাম্পের অপর করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সেখানে টার্নের আশায় ব্যাট পেতেছিলেন নিক ওয়েলচ। তবে বল সোজা আঘাত হানে তার পায়ে। সাজঘরে ফেরার আগে ১৯ বলে ১০ রান করেছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। ২ উইকেটে ১১৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের চা বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে। বিরতির পর জ্বলে উঠেন মিরাজ। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন উইলিয়ামস। মিরাজের বলে সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৩ বলে ৯ রান। নিজের পরের ওভারেও উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। এবার তার শিকার বেনেট। ইনিংসের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যাট করা এই ওপেনার বড় শট খেলতে গিয়েই ধরা পড়েন। লং অনে মুশফিকের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৮১ বলে করেছেন ৫৪ রান। চাপের মুখে সুবিধা করতে পারেননি অভিজ্ঞ ক্রেগ আরভিন। মায়াভোকে ৪ বল খেলে ১ রান করেছেন তিনি।
এর আগে আড়াইশ পেরিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। তাতে জিম্বাবুয়ের টার্গেট দাড়ায় ১৭৪। প্রথম টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটাবার টেলএন্ডারদের নিয়ে জাকের আলী অনিকের সংগ্রামের দৃশ্য দেখতে হলো বাংলাদেশকে। টপঅর্ডারে বড় রান না থাকার পর নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটি, মিডল অর্ডারে বাকিদের ব্যর্থতা আর শেষে জাকেরের প্রতিরোধ, সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সারাংশ মোটাদাগে এমনই। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ সবমিলিয়ে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৭১ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন জাকের আলী অনিক। থেমেছেন ৫৮ রান করে। বাংলাদেশ অলআউট হলো ২৫৫ রানে। লিড ১৭৩ রানে। সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে জয় পেতে জিম্বাবুয়ের দরকার ১৭৪ রান। বৃষ্টি বাগড়ার পর চতুর্থ দিনে স্বাগতিকরা ব্যাট হাতে কোনোপ্রকারেই সুবিধা করতে পারেনি। দিনের প্রথম ৭ ওভারেই হারিয়েছে ৩ উইকেট। দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। তারই দেখানো পথে হেঁটেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম।
জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বলছে বিশ্লেষকরা। ‘আমরা যেন আলাদা না করি জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া বা সাউথ আফ্রিকা প্রতিটি ম্যাচই আন্তর্জাতিক ম্যাচ’, সিলেটে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে জিম্বাবুয়েকে বেশ সমীহের চোখেই দেখছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। জিম্বাবুয়ের মতো দলও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এমন একটা আভাসও দিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাঠের ক্রিকেটে সতীর্থ ক্রিকেটাররা যেন অধিনায়কের সেই কথার মান রাখতেই বেশ ব্যস্ত থাকলেন। স্বাগতিকদের অতি জঘন্য ব্যাটিং আর সফরকারীদের দারুণ প্রচেষ্টায় সিলেট টেস্ট হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস ছিল মোটে একটি। ১০৫ বলে ৫৬ রান করেছিলেন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যর্থ টপ-অর্ডার। এবার দলের ‘ইজ্জত’ কিছুটা বাঁচানোর চেষ্টা চালালেন অধিনায়ক শান্ত। তার ফিফটি আর শেষদিকে জাকের আলির প্রতিরোধে দেড়শোর্ধ্ব লিড দাঁড় করায় বাংলাদেশ। যা শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। যদিও বৃষ্টিবিঘ্নিত সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ইতিবাচক হওয়ারও যথেষ্ট কারণ ছিল। বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শুরু করে ১১২ রানের লিড নিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ১৯১ ও ২৫৫ (নাজমুল ৬০, জাকের ৫৮, মুমিনুল ৪৭, মাহমুদুল ৩৩; মুজারাবানি ৬/৭২, মাসাকাদজা ২/২০) জিম্বাবুয়ে : ২৭৩ ও ৫০.১ ওভারে ১৭৪/৭ (বেনেট ৫৪, কারেন ৪৪, মাধেভেরে ১৯*; মিরাজ ৫/৫০, তাইজুল ২/৭০)
ফল : জিম্বাবুয়ে ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ব্লেসিং মুজারাবানি
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০ তে এগিয়ে
