শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

রোনালদোর ছেলেটি পরিচয় আজও রহস্য

প্রকাশিত - ২৪ এপ্রিল, ২০২৫   ০২:৩৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেল| উত্তর খুঁজতে গিয়ে চুল-দাড়ি পেকে গেল অনেকের। wKš‘ ঝামেলা হলো, সে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বড় ছেলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। বাবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা কী সে হয়তো জানে না, তবে এটা জানে, বাবা একটু সময় দেবেই। এর মধ্যেই তাকে তৈরি হয়ে উঠতে হবে। অর্থাৎ বাবার অবসর নেওয়ার এখনো দেরি আছে। ঠিক কতটা, সেটা সে হয়তো জানে না, আন্দাজ করতে পারে। 

ষোলো-সতেরোর ভেতর সে মূল দলে চলে এলেই বাবার অপেক্ষার অবসান। বাবা কেন বুট তুলে রাখে না, সেটা জুনিয়রের তাই ভালোই জানা। আসল কথা হলো, অবসর নেওয়ার আগে তার বাবা তার সঙ্গে খেলতে চান। গত মাসেই কথাটা বলেছেন ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ক্যানাল১১’কে, ‘আমি এটা চাই। এমন না যে এটার জন্য রাতে ঘুম হয় না, কিন্তু হলে ভালো হতো।’ জুনিয়র জানে, ফুটবলের তাবৎ উঁচু উঁচু স্বপ্ন ধরাশায়ী করলেও এই স্বপ্ন তার বাবা চাইলেই পূরণ করতে পারবেন না। বাবা তো আর আল নাসর অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সঙ্গে মাঠে নামতে পারবেন না! যা করার তাকেই করতে হবে। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে উঠে আসতে হবে আল নাসরের মূল দলে। সর্বোচ্চ ৩ বছর? তখন হয়তো সম্ভব। এর মধ্যে আসল কাজটা করতে হবে তাকে। বাবা সেটাও সেই ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দেখা যাক। ব্যাপারটা আমার চেয়ে তার (জুনিয়র) ওপর বেশি নির্ভর করছে।’ বাবার জায়গা থেকে দেখলে জুনিয়রের কাঁধে অনেক দায়িত্ব। কিন্তু বাবা আগেই বলে দিয়েছেন সবাইকে, ক্রিসের ‘যেটা ভালো লাগে করবে। আমি হবো গর্বিত বাবা।’

ফুটবলটা যে তার ভালো লাগে না, তা নয়। অবশ্যই ভালো লাগে। আর লোকেও বলে, বাপ কা বেটা; খেলার ধরন ও ধার দেখে। ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যমে বের হয়েছিল, জুভেন্টাসের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ২৮ ম্যাচে ৫৮ গোল করেছে। আসলে বাবার খেলার জায়গাগুলোই জুনিয়রের ফুটবল পাঠশালা। রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমি পেরিয়ে এখন আল নাসরের বয়সভিত্তিক দলে। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৩ দলকে সৌদি প্রিমিয়ার লিগ জিতিয়ে এখন অনূর্ধ্ব-১৫ দলে বাবার মতোই ৭ নম্বর জার্সির খেলোয়াড়।

বলতে পারেন বাবারই কার্বন কপি। বাবার মতো খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা হয়। তারপর প্রথম যে কাজটি জুনিয়র করে সেটা হলো, গোটা দিনের পরিকল্পনা বাবাকে জানায়। কোনো ভুলত্রুটি বা পরামর্শ থাকলে সিনিয়র তা শুধরে দেন। মুখটা ধুয়ে বাবার হাতে বানানো প্রোটিন শেক খেয়ে দিনটা শুরু করে জুনিয়র। বাইরে থেকে একটু ঘুরে এসে সকালের নাশতায় ফল ও ইয়োগার্টই বেশি পছন্দ তার।

১০ বছর আগে ‘দ্য জোনাথন রস শো’তেই রোনালদো বলেছিলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো বড় হওয়ার পর আমি অবশ্যই তাকে সত্যটা বলব, কারণ, এটা তার প্রাপ্য। এরপর শুরু হয় বাবার সঙ্গে জিমে অনুশীলন। প্রতিদিনই নিজের শরীরটা নিয়ে কাজ করে জুনিয়র। এই কাজে ‘শিক্ষক’ তার বাবাই। বাসায় রোজকার এসব অনুশীলন সেশনের মাঝে জুনিয়র আরও একটি কাজ করে। বল নিয়ে ভাইবোনদের সঙ্গে খেলতে সে খুব পছন্দ করে। তার ছোট ছোট ভাইবোনও এই খেলায় খুব মজা পায় বলে জানিয়েছেন রোনালদোর আর্জেন্টাইন প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজ।

রিও ফার্ডিনান্ডের পডকাস্টে রোনালদোও কিছু মজার তথ্য জানিয়েছেন। জুনিয়রের সঙ্গে প্রতিদিনই প্যাডেল খেলেন তিনি। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বশে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়াও লাগে। তখন কিছুদিনের জন্য দুজনের মধ্যে কথা বলার বিরতি চলে। পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। আসলে রোনালদোর সন্তানেরা তাঁর মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জুনিয়র একটু বেড়ে ওঠায় তার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাবটি এখন বেশি বোঝা যায়। রোনালদোর ভাষায়, ‘এমনকি ছোট্ট মাতেও পর্যন্ত খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাবের। আমার ভালো লাগে। কারণ, তাদের ব্যক্তিত্বটা এতে বোঝা যায়। সত্যি বলতে, আমার সন্তানেরা আমার মতোই। আমি তাদের কিছু শেখাই না, আমাকে তারা উদাহরণ হিসেবে দেখে। কখনো রেগে যাই, কখনো কাঁদি, তারাও একই রকম। আমি তাদের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কোনোকিছু সহজে জিততে দিই না।’

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)