শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রিমিয়ার ক্রিকেট আবাহনী চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশিত - ২৯ এপ্রিল, ২০২৫   ১১:৫৪ এএম
webnews24

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল : ফেডারেশন কাপ ফুটবল আর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট (ডিপিএল) ক্রিকেট লিগের শেষ ম্যাচ ছিল মঙ্গলবার। দু’জায়গায়ই একটি দল ছিল সেটি আবাহনী লিমিটেড। ফেড কাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল বসুন্ধরা কিংস আর ডিপিএলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। বহুল আলোচিত ফেডারেশন কাপের ফাইনালের বাকি ছিল ১৫ মিনিটের খেলা। আর শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচ ছিল প্রিমিয়ার ক্রিকেটে। ময়মনসিংহে ফেড কাপে শিরোপা নির্ধারনী টাইব্রেকারে শেষ শটের সময়ই ঢাকার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে উইনিং শট খেলে দলকে জিতিয়েছেন আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। একইদিনে জয়-পরাজয় দুটোই দেখল ধানমিন্ডর জায়ান্টরা। তবে দিন আবাহনীর বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবেনা।

মোহামেডানকে হারিয়ে টানা চতুর্থ শিরোপা জিতল আবাহনী
প্রথম ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে হারের পর আর পরাজয়ের মুখ দেখেনি। আর শেষ ম্যাচে সেই মোহামেডানকে হারিয়ে দুঃসময়ে দারুণ এক শিরোপা জিতল আবাহনী। ঢাকাই ক্রিকেটের দুই জায়ান্ট আবাহনী এবং মোহামেডানের মধ্যে ডিপিএলে শিরোপার লড়াই জমে উঠেছিল। টুর্নামেন্টজুড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল অলিখিত ফাইনালে। অবশেষে সে ফাইনাল জিতে টানা চতুর্থবারের মতো ডিপিএল শিরোপা জয় করেছে আবাহনী। ম্যাচে তারা মোহামেডানকে হারিয়েছে ৬ উইকেটে। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে এদিন টস জিতে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আবাহনী। চোটের কারণে মোহামেডানের নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালের টুর্নামেন্ট আগেই শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলটির বদলি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও ছিলেন অনুপস্থিত। এমন পরিস্থিতি আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের নেতৃত্ব দেন ওপেনার রনি তালুকদার। নেতৃত্ব পেয়ে ব্যাট হাতে দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রনি। রিপন মন্ডলর বলে ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ৪৫ রান।

দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করে এসেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং আরিফুল ইসলামের ব্যাটে। ৪২ রান করেন ফরহাদ হোসেন। তবে এই ব্যাটাররা তাদের ইনিংসগুলোকে আরও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলতে না পারার মাশুল গুনতে হয়েছে মোহামেডানকে। ৫০ ওভার শেষে তাদের রান দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৪০। শক্তিশালী আবাহনীর জন্য এই রান চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা ছিল না। মোহামেডানের বোলাররা এই পুঁজি নিয়ে ন্যূনতম লড়াইটাও করতে পারেননি। শুরুতেই অবশ্য আবাহনীর ওপেনার শাহরিয়ার কমলকে (১) ফিরিয়েছিলেন এবাদত হোসেন। অন্য ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও ২৮ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৭৮*), মোহাম্মদ মিঠুন (৬৬*) এবং জিসান আলমের (৫৫) তিন ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত ৯.২ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আবাহনী। শিরোপা জিতে কোচ হান্নান সরকারকে কোলে নিয়ে উল্লাসে মাতেন খেলোয়াড়রা।

নাটকীয় ফাইনালে টাইব্রেকারে কিংসের শিরোপা
ক্রিকেটের মতো ফুটবলে জিততে পারত আবাহনী। কিন্তু টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলায় আর পেরে ওঠেনি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে। প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ময়মনসিংহের স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় আবাহনী ও কিংস। সেদিন নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ সমতায় থাকলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের পরই আলোকস্বল্পতার কারণে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। ১০৫ মিনিট খেলার পরও অমীমাংসিত সেই ম্যাচের বাকি ১৫ মিনিট পরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই মাঠে বাকি ১৫ মিনিট খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এরপরও ১-১ সমতা না ঘোচায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আবাহনীকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপ শিরোপা নিতে নেয় কিংস। নাটকে ঠাঁসা ফেডারেশন কাপের ফাইনালের টাইব্রেকারেও ছিল নাটকীয়তা। আবাহনীর হয়ে চতুর্থ শটটি নিয়েছিলেন মিরাজুল ইসলাম। তার সে শট কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ সেভ করলে সঙ্গে সঙ্গে উল্লাস শুরু হয় কিংস শিবিরে। কারণ আবাহনীর সে মিসের আগে তাদের এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।

তবে রেফারি যে আগেই ফাউলের পতাকা তুলেছিলেন, তা হয়ত কিংসের অনেকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানানোয় কিংসের গোলকিপিং কোচ নুরুজ্জামান নয়নকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে মিরাজুল পুনরায় শট নিয়ে জাল খুঁজে পান। কিংসের হয়ে পঞ্চম ও শেষ শট নিতে আসেন ব্রাজিলিয়ান ড্যাসিয়েল। তার নেয়া শট জালে প্রবেশ করলে কিংস পুনরায় উল্লাস করে। ফেডারেশনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পুনরায় তাদের ট্রফি নিজেদের কাছেই রাখতে পারল। টাইব্রেকারে কিংসের জোনাথান ফার্নান্দেস, শেখ মোরসালিন, ইনসান, তপু বর্মণ এবং দাসিয়েল জাল খুঁজে পান। অন্যদিকে আবাহনীর পক্ষে রাফায়েল, সবুজ হোসেন এবং মিরাজুল ইসলাম। তবে দলটির স্ট্রাইকার এমেকা টাইব্রেকারে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সেটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। ফেড কাপে শিরোপা জয় করে উল্লাস করতে পারেনি দুঃসময়ের মধ্যদিয়ে যাওয়া আবাহনী।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)