২৪ঘণ্টা অনলাইন : একেই বলের বড় বদলা। সিলেটে হারের পাল্টা জবাব চট্টগ্রাম টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ে। এই জয়ে ব্যাটে বলে দুর্দান্ত নেতৃ্ব দিয়েছেন মেহেদী মিরাজ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে (১-১) সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।
প্রথম টেস্টে পাহাড় ঘেষা সিলেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে ৩ উইকেটে হেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মিরাজ-তাইজুলরা। তবে চট্টগ্রামের সাগরিকায় মেহেদি হাসান মিরাজের অলরাউন্ড, সাদমান ইসলাম অনিকের সেঞ্চুরি আর তাইজুল ইসলামের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। ৩০ এপ্রিল তৃতীয় দিনেই ৫ দিনের ম্যাচ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামে মিরাজের ব্যাটের বড় লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। পাশাপাশি ৫ বছর টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ২১ ওভার বল করে মাত্র ৩২ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন। দলের জয়ে অবদান রয়েছে ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিকেরও। তার ১২০ রানের ইনিংসটি ১৬টি চার আর ১টি ছক্কায় সাজানো। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২২৭ রানে গুঁড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনি ৬ উইকেট শিকার করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন ৩ উইকেট। মিরাজের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি।
প্রথম ইনিংসে সেন উইলিয়ামস (৬৭) ও নিক ওয়েলচের (৫৪) জোড়া ফিফটিতে ভর করে ২২৭ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মেহেদি হাসান মিরাজের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪৪৪ রান করে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংং করেছেন তানজিম হাসান সাকিব ৪১। এ ছাড়া ৪০ রান করেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৩৯ রান করেন ২০২২ সালের জুনের পর টেস্টে ফেরা এনামুল হক বিজয়। ৩৩ রান করেন মুমিনুল হক সৌরভ।২১৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের ঘুর্ণি বলে বিভ্রান্ত হয়ে ৪৬.২ ওভারে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার বেন কারান।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ গড়ে ফেললেন বড় এক কীর্তি। নিজের ইনিংসের ৩৬তম রান পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি টেস্টে ২০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করেন। একজন খেলোয়াড়ের নামের পাশে ২০০০ রান আর ২০০ উইকেট, এমন কীর্তি টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটেছে মাত্র ২৩ বার। বাংলাদেশের হয়েও এই রেকর্ড গড়া হয়েছে অতীতে। সে নামটা সাকিব আল হাসানের। সেখানে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখালেন মিরাজ। বাংলাদেশের হয়ে এই ডাবল পূর্ণ করতে মিরাজের লেগেছে ৫৩টি টেস্ট। সাকিব এই কীর্তি গড়েছিলেন ৫৪তম টেস্টে।
